Forward twist Yoga

একটানা দাঁড়িয়ে বা বসে কাজে কোমর-নিতম্বে যন্ত্রণা, বয়স্কেরা চেয়ারে বসেই করতে পারেন সহজ এক আসন

ম্যাটে বসে বা দাঁড়িয়ে শরীরে মোচড় দিয়ে ব্যায়াম সকলে করতে পারেন না। বিশেষ করে বয়সকালে বা শরীরে ব্য়থা-বেদনা থাকলে সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে চেয়ারে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসেই করা যাবে সহজ এক আসন। যোগব্যায়াম হবে, আবার শরীরের স্ট্রেচিংও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১০:০১
Share:

চেয়ারে বসেই করুন ফরোয়ার্ড টুইস্ট। চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।

শরীরের যে কোনও অঙ্গেই ব্যথাবেদনা স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন ঘটায়। সে পিঠ-কোমর টনটনিয়ে উঠুক বা ঘাড়ে-কাঁধে বিদ্যুতের শক লাগার মতো ব্যথা— যাঁর হয়, তিনিই তার মর্ম বোঝেন। ব্যথাবেদনারও বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাদের নাম, ধরন, প্রকৃতিও ভিন্ন ভিন্ন। যিনি একটানা দাঁড়িয়ে কাজ করেন, তাঁর ব্য়থার লক্ষণ আলাদা, আবার যিনি টানা ৬ ঘণ্টার বেশি বসে থাকেন, তাঁর উপসর্গ ভিন্ন। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই পেশির অসাড়তা বাড়ে, শক্তি কমে এবং অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ বাড়ে। এর থেকে রেহাই পেতে যোগব্যায়ামই সহজ উপায় হতে পারে।

Advertisement

তবে সমস্যা আছে। যোগাসনের সব ভঙ্গি সহজ নয়। আবার মাটিতে ম্যাটে বসে বা দাঁড়িয়ে শরীরে মোচড় দিয়ে ব্যায়াম করাও সকলের সাধ্য নয়। বয়স্কেরাই এ ক্ষেত্রে সমস্যায় বেশি পড়েন। তবে একই রকম আসনের ভঙ্গি চেয়ারে বসেই করা যায়। যেমন ফরোয়ার্ড টুইস্ট। দাঁড়িয়ে কোমর ঝুঁকিয়ে এই ব্যায়াম করতে হয়। সেটি আবার চেয়ারে বসেও করা যায়। কী ভাবে, সে পদ্ধতি রইল।

কী ভাবে করবেন?

Advertisement

১) পিঠ টানটান করে চেয়ারে বসুন। মাথা ও ঘাড় সোজা থাকবে।

২) দুই হাত দুই ঊরুর উপর রাখতে হবে, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।

৩) এ বার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে বাঁ দিকে ঘুরে নিচু হয়ে ডান হাত দিয়ে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল ধরার চেষ্টা করুন। না পারলে পায়ের পাতা স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। সেই সঙ্গে বাঁ হাত উপরে তুলুন।

৪) এই অবস্থায় ১০-২০ সেকেন্ড থেকে শ্বাস নিতে নিতে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।

৫) একই ভাবে ডান দিকে কোমর বেঁকিয়ে নিচু হয়ে ডান হাত দিয়ে বাঁ পায়ের আঙুল বা পায়ের পাতা স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। ওই সময়ে ডান হাত উপরে তুলতে হবে।

৬) দুই পায়ে পর্যায়ক্রমে ৫ বার আসনটি করতে হবে। শুরুর দিকে কোমর যতটা ঝোঁকানো যায়, করবেন। অযথা শরীরে চাপ না দেওয়াই ভাল। ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।

উপকারিতা:

পিঠ-কোমরের ব্য়থা কমবে।

নিতম্বের অসাড়তা কাটবে।

ঊরু ও কাফ মাস্‌লের ব্যায়াম হবে, পা সচল থাকবে, পেশির জোর বাড়বে।

পায়ের পাশাপাশি হাতেরও স্ট্রেচিং হবে।

ঘাড়ের ব্য়থা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে তা কমে যাবে।

সারা শরীরের ব্যায়াম হবে।

কারা করবেন না?

ভার্টিগোর সমস্যা থাকলে আসনটি করবেন না।

স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে বা মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আসনটি করা যাবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement