কিডনির পাথর বেরিয়ে যায় বেশি জল খেলে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কিডনির সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। কমবয়সিদের মধ্যেও কিডনির অসুখ বাড়তে থাকায় চিন্তিত চিকিৎসকেরা। তারই মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা হল স্টোন বা পাথর। যে কোনও বয়সেই হানা দিচ্ছে এই সমস্যা। উপসর্গ নেই, কষ্ট নেই। আচমকা হয়তো একটু কোমরে ব্যথা বা তলপেটে কষ্ট। তার পর একদিন দুম করে প্রচণ্ড পেটের কোনও এক দিকে তীব্র ব্যথা। পরীক্ষায় ধরা পড়ছে স্টোন। পাথর ছোট থাকলে ওষুধ দিয়ে নিরাময় সম্ভব, আর বড় হলে অস্ত্রোপচার বা ইউআরএসএল-এর মতো প্রক্রিয়ার সাহায্যে পাথর ভেঙে বার করতে হচ্ছে।
কিডনিতে পাথর হলে অনেকেই বলেন বারে বারে জল খেতে। কিডনি ভাল রাখতে চিকিৎসকেরাও পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। তা হলে কি জলই মহৌষধ? বিশাখাপত্তনমের একটি কিডনি হাসপাতালের চিকিৎসক অমিত সাপলে এক সাক্ষাৎকারে জল খাওয়ার সঙ্গে কিডনির স্বাস্থ্যের সম্পর্কের ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানাচ্ছেন, গরমের জায়গা এবং জল কম খাওয়ার প্রবণতা কিডনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত যাঁরা জল খুব কম খান, তাঁদের এই সমস্যা বেশি হয়।
কিডনিতে পাথর কেন হয়?
কিডনির কাজ হল শরীর থেকে দূষিত পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বার করে দেওয়া। জল কম খেলে ঘন হয়ে যায় প্রস্রাব। প্রস্রাবে থাকা ক্যালশিয়াম, অক্সালেট এবং ইউরিক অ্যাসিড দ্রুত থিতিয়ে পড়ে এবং তারা জমাট বেঁধে পাথরের আকার নেয়, যাকে বলা হয় কিডনি স্টোন। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেলে, প্রস্রাবের ঘনত্ব কম থাকে, ফলে তার মধ্যে থাকা উপাদান জমাট বাঁধার সুযোগ পায় না। বেরিয়ে যায়। তবে জল বেশি খেলেই যে পাথর হওয়া আটকানো যাবে তা নয়। চিকিৎসকের কথায়, এতে ঝুঁকি কমতে পারে।
পাথর তৈরির নেপথ্যে থাকে উচ্চ অক্সালেট জাতীয় খাবার, যেমন বাদাম, পালংশাক, বিটের মতো সব্জি। ক্যালশিয়ামের সঙ্গে জমাট বেঁধে পাথর তৈরি করে। তাই যাঁদের কিডনি স্টোন হয়েছে তাঁদের এই খাবারগুলি পরিমিত বা কম মাত্রায় খাওয়া ভাল। তা ছাড়া অতিরিক্ত নুন যুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবারও কিডনির জন্য ক্ষতিকর।
পাথরও কি বেরিয়ে যায় বেশি জল খেলে?
অনেকেই বলেন কিডনির পাথর বার করে দেওয়ার সহজ উপায় হল বারে বারে জল খাওয়া। বেশি জল খেলেই কিডনি পরিষ্কার থাকবে। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, এই কথা আংশিক ভাবে সঠিক। পাথর খুব ছোট হলে বেশি জল খেলে প্রস্রাবের মাধ্যমে তা বেরিয়ে যেতে পারে। তবে জল কিন্তু পাথর গলাতে পারে না। জল খেলে প্রস্রাবের বেগে খুব ছোট্ট পাথর বেরিয়ে যেতে পারে। পাথরের আকার ৫ মিলিমিটারের বেশি হলে জল খেয়ে তা বার করা যায় না, প্রয়োজন হয় চিকিৎসার। কিছু ওষুধ পাথর ভাঙতে সাহায্য করে। তবে স্টোন বা পাথর বড় হয়ে গেলে তা বার করার জন্য নানা ধরনের প্রক্রিয়া রয়েছে। শব্দতরঙ্গের সাহায্যে পাথর ভেঙে দেওয়া হয়। তার পরে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। কখনও কখনও অস্ত্রোপচারেরও দরকার পড়ে।
দিনে কতটা জল খাওয়া দরকার?
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোন পরিবেশে রয়েছেন, তাঁর কতটা কায়িক শ্রম হচ্ছে, তার উপর জলের মাত্রা নির্ভর করে। জল খাওয়া যেমন জরুরি তেমন অতিরিক্ত হলেও কিডনির উপর চাপ পড়তে পারে। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, গরমকালে একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষ দিনে ১০-১২ গ্লাস জল খেতে পারেন। প্রস্রাবের রং যদি হলুদ হয়ে যায়, বুঝতে হবে, জল খাওয়া কম হচ্ছে। প্রস্রাবের বর্ণ সব সময় হালকা হলুদ থাকবে। চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, জল খাওয়ার প্রয়োজন আছে, তবে কিডনির স্টোনের চিকিৎসার শেষ কথা কিন্তু জল নয়।