শিশুর রোগের কারণ কী? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
শিশু কাশি বা সর্দিতে ভুগলে প্রথমেই দোষ পড়ে ঠান্ডা খাবারের উপর। ‘‘আইসক্রিম খেয়েছে, ঠান্ডা জল খেয়েছে, তাই হয়েছে’’। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধারণা সম্পূর্ণ সত্য নয়। বরং সমস্যার আসল কারণ অন্য জায়গায়। চিকিৎসকদের মতে, কাশি-সর্দির মূল কারণ হল ভাইরাস সংক্রমণ, খাবারের তাপমাত্রা নয়। শিশুদের মধ্যে যে সাধারণ সর্দি বা কাশি হয়, তা মূলত বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে ছড়ায়। এই জীবাণুগুলি বাতাসের মাধ্যমে, হাঁচি-কাশি বা যে ব্যক্তি এই রোগে ভুগছেন, তাঁর সংস্পর্শে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন শিশুরোগ চিকিৎসক নন্দিতা সাহা।
শিশুর ঠান্ডা লাগার কারণ কী? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঠান্ডা খাবারের সঙ্গে এই সংক্রমণের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। চিকিৎসকের বক্তব্য, আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় খেলে সর্দি-কাশি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তা হলে ভুল ধারণা তৈরি হল কী ভাবে? অনেক সময়ে দেখা যায়, শিশু ঠান্ডা কিছু খাওয়ার পরই তার সর্দি বা কাশি শুরু হয়েছে। কিন্তু আসলে ভাইরাস শরীরে আগে থেকেই ছিল। শুধু লক্ষণটা তখন প্রকাশ পেয়েছে। ফলে দু’টির মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হয় কেবল।
তবে এ কথা ঠিক যে, ঠান্ডা খাবার খেলে কখনও সখনও গলায় সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। যেমন হালকা জ্বালা বা খুশখুশে অনুভূতি। কিন্তু এটি সংক্রমণ নয়, আর দ্রুত সেরে যেতে পারে। বড়জোর আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিঙ্ক খেলে পেটে সংক্রমণ হতে পারে বা পেটখারাপ হতে পারে। অন্য দিকে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের লক্ষণ আলাদা। যেমন, নাক দিয়ে জল পড়া, বার বার কাশি, জ্বর, ক্লান্তি, এই সব একসঙ্গে দেখা যায় এবং বেশ কয়েক দিন ধরে থেকে যায়। এই লক্ষণগুলিই আসলে সতর্কবার্তা। তাই শিশুর সর্দি-কাশির জন্য আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয়কে দোষ দেওয়ার আগে বাস্তবটা বোঝা জরুরি। কারণ সমস্যার মূল যদি ভাইরাস হয়, তা হলে সমাধানও সেখানেই খুঁজতে হবে, কেবল খাবারের উপর নয়।