ইউটেরাইন সারকোমা কী, কেন সতর্ক হতে বলছেন চিকিৎসকেরা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
জরায়ুতে ২১.৮ কেজি ওজনের টিউমার নিয়েই ঘুরছিলেন মহিলা। ফুলেফেঁপে উঠেছিল পেট। ঋতুচক্র ছাড়াও রক্তপাত হয়ে চলেছিল অস্বাভাবিক ভাবে। তাতেই ভয় পেয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। পরীক্ষা করে দেখা যায়, গোটা পেট জুড়েই বাসা বেঁধেছে বিশাল এক টিউমার। তা ছড়িয়েছে শ্রোণিদেশ অবধি। আর সে টিউমার সাধারণ জরায়ুর টিউমার নয়। সেটি ইউটেরাইন সারকোমা। জরায়ুর এক ধরনের ক্যানসার, যা ছড়িয়ে পড়ে খুব দ্রুত। জরায়ুতে এমন ক্যানসার হওয়া খুবই বিরল। ২ শতাংশ ক্ষেত্রে বা তারও কম এমন ক্যানসার হতে দেখা যায়। ঘণ্টা খানেকের অস্ত্রোপচারে সেই পেল্লায় টিউমার বার করেন দিল্লি এম্সের চিকিৎসকেরা।
ইউটেরাইন সারকোমাকে জরায়ুর সিস্ট বা ফাইব্রয়েডের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। তবে এর চরিত্র আলাদা, এমনই জানিয়েছেন এম্সের চিকিৎসক এমডি রায়। তিনি জানান, ওই মহিলার খিদে চলে গিয়েছিল। সবসময়েই পেট ফুলে থাকত। সেই সঙ্গে রক্তপাত হয়ে চলেছিল। আলট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখা যায়, পেল্লায় টিউমার পেট থেকে পুরো পেলভিক এলাকা অবধি ছড়িয়ে পড়েছে। সেটি ক্ষতি করছে অন্ত্র, কিডনির। এমনকি, কিডনির কার্যক্ষমতাও কমতে শুরু করেছিল। আর কিছু দিন দেরি হলেই মাল্টিঅর্গ্যান ফেলিয়োরের দিকে যেতেন মহিলা।
ইউটেরাইন সারকোমা কী?
জরায়ুর পেশি ও কোষগুলিতে ক্ষত তৈরি হয়। কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন শুরু হয়ে যায়। কারও ক্ষেত্রে জরায়ুর পেশি থেকে টিউমার তৈরি হয়, আবার কারও কোষ বিভাজিত হতে হতে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে। জরায়ুর ভিতরে তৈরি হওয়া এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের থেকে এটি আলাদা। ইউটেরাইন সারকোমা কেবল জরায়ুতে আবদ্ধ থাকে না, সেটি পেলভিক এলাকা অবধি ছড়িয়ে পড়ে। তার পরে ডিম্বাশয়, মূত্রথলি ও মূত্রনালিতেও ছড়াতে থাকে। ফলে প্রস্রাবের সংক্রমণ দেখা দেয়, কিডনির ক্ষতি হতে শুরু করে। এমনও দেখা গিয়েছে, লসিকা গ্রন্থির মাধ্যমে সেটি ফুসফুস, লিভার বা হাড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইউটেরাইন সারকোমার সঙ্গে জরায়ুর ফাইব্রয়েডের উপসর্গের মিল রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও পেট ফুলে ওঠা, অস্বাভাবিক ঋতুস্রাব, রজোনিবৃত্তির পরেও রক্তপাত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৭-৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বার জরায়ুর আকার যেমন হয়, এ ক্ষেত্রেও পেটের আকার তেমনই হয়ে যায়। এ ছাড়া, প্রস্রাবের হার বেড়ে যাওয়া, প্রস্রাবের সময়ে তীব্র যন্ত্রণা, তলপেটে ব্যথাও এই রোগের উপসর্গ। ৪০ বছর থেকে ৬০ বছরে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে আরও কম বয়সেও হতে পারে।
কী চিকিৎসা হয়?
মহিলার জরায়ুতে তৈরি হওয়া ২১ কেজির টিউমার অপসারণের জন্য এক্সপ্লোরেটরি ল্যাপারোটমি করেন এম্সের চিকিৎসকেরা। সিটি স্ক্যান আলট্রাসাউন্ডেও যখন সমস্যার সবটা বোঝা যায় না, তখন এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়। পেটে ছিদ্র করে তার পরে অস্ত্রোপচার করা হয়। শরীরের যে অংশগুলিতে কোষের ক্ষতি বেশি হয়েছে, সেগুলি দ্রুত মেরামত করা যায় এই পদ্ধতিতে। এম্সের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মহিলার ক্ষেত্রে টিউমারের আকার ও ওজন এতটাই বেশি ছিল যে, ঘণ্টা খানেকের অস্ত্রোপচারের পরে তবেই সেটি বার করা সম্ভব হয়।