কৃতি সেননের স্বাস্থ্যকর যাপন। ছবি: সংগৃহীত।
ফিটনেস মানেই জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো— এই ধারণা এখনও অনেকের মাথায় গেঁথে বসে আছে। কিন্তু একই সঙ্গে এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন একাধিক চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ এবং তারকা। নিয়মিত শরীরচর্চা মানে সব সময়ে ভারোত্তোলন বা ট্রেডমিল নয়, কখনও কখনও খুব সাধারণ অভ্যাসও হয়ে উঠতে পারে ফিট থাকার চাবিকাঠি। ঠিক এমনই বলছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি সেনন।
কৃতির ফিটনেস যাত্রা। ছবি: সংগৃহীত
৩৫ বছরের তারকা সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ফিটনেস যাত্রা সম্পর্কে কথা বলেছেন। সেই কথোপকথনেই উঠে আসে নায়িকার অভ্যাসের কথা। অভ্যাসটি স্বাস্থ্যকর কি না তা নিয়ে উঠতে পারে প্রশ্ন। হাঁটতে হাঁটতে কথা বলার অভ্যাস রয়েছে তাঁর। ফোনে কথা বলার সময়ে বসে না থেকে হাঁটতে শুরু করেন তিনি। এতে অজান্তেই অনেকটা হাঁটা হয়ে যায়, শরীর সচল থাকে। এই ছোট্ট অভ্যাসটিই ধীরে ধীরে তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে উঠেছে।
কৃতির মতে, জিমে গিয়ে ব্যায়াম করাই একমাত্র পথ নয়। বরং নিজের শরীরকে সক্রিয় রাখাই আসল বিষয়। বিশেষ করে দিল্লিতে থাকাকালীন তিনি নিয়মিত জিমে যেতেন না বলেই জানিয়েছেন। তাঁর সব সময়ে একটি লক্ষ্যের দরকার পড়ত। অর্থাৎ, হঠাৎ করে ‘আজ থেকে ফিট হব’ ভাবলে তা দীর্ঘস্থায়ী হত না। বরং কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকলে, যেমন কোনও চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি, বা শরীর ঠিক রাখা, তখনই নিয়ম মেনে চলা সহজ হত তাঁর জন্য। চরিত্রের প্রয়োজনেই কেবল জিমে পরিশ্রম করতেন তিনি। ঠিক যেমন ‘রাবতা’র সময়ে অনেকটা রোগা হতে হয় তাঁকে। সেই সময়ে জিমে যেতে হয়েছিল কৃতিকে। তবে নির্দিষ্ট একটি ছবির চরিত্রের জন্য শরীরচর্চা শুরু করেন তিনি। তার পর যদিও নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস হয়েছে তাঁর। কিন্তু শরীরচর্চার শুরুটা জিমের বাইরেই হয়েছিল।
ফিটনেসের জন্য সব সময়ে কঠোর রুটিনের দরকার পড়ে না, বরং নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই অভ্যাস তৈরি করাটাই বেশি জরুরি। যেমন অফিসে বসে কাজ করলে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটা, ফোনে কথা বলার সময়ে দাঁড়িয়ে থাকা বা হালকা স্ট্রেচ করা, এই ছোট ছোট বদলই বড় ফল দিতে পারে। উপরন্তু, নিজেকে জোর করে কোনও রুটিনে ঢোকানো যায় না। বরং এমন কিছু বেছে নেওয়া উচিত, যা করতে ভাল লাগে। তবেই সেটি দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।