পেট ভাল রাখতে কাঞ্জি কী ভাবে বানাবেন? ছবি: ফ্রিপিক।
পেটের সমস্যা নেই এমন বাঙালি বিরল। গ্যাস-অম্বল, ডায়েরিয়া এই নিয়েই চলছে। গাদা গাদা ওষুধ খেয়েও পেটের রোগ সারে কিছুতেই। তার উপরে বিয়েবাড়ি, সপ্তাহান্তের অফিস পার্টি, ঘুরতে গিয়ে বাইরে ভালমন্দ খাওয়াদাওয়া— এ সব তো আছেই। পেটের রোগ কী ভাবে সারবে, সে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। কেউ বলেন জিরে ভেজানো জল খাওয়া ভাল, কেউ আবার আদা-জোয়ানের জলে ভরসা রাখেন। তবে পেটের রোগ যদি পাকাপাকি ভাবে সারাতে হয় এবং লিভারও ভাল রাখতে হয়, তা হলে কাজে আসতে পারে কাঞ্জি। এমন এক পানীয় যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। লিভারের রোগ সারায় এবং ত্বকও ভাল রাখে।
সাধারণত পেট ভাল রাখতে প্রোবায়োটিক জাতীয় খাবার খেতে বলেন পুষ্টিবিদেরা। তবে ঘোল বা দই খেলেও অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দেয়। তাই পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের স্থানীয়েরা বিশেষ একটি পানীয় খান এই সময়ে। এরই নাম কাঞ্জি। এই পানীয় গেঁজিয়ে তৈরি করা হয়, তাই এতে ভরপুর প্রোবায়োটিক থাকে। শরীর ভিতর থেকে ডিটক্স করতেও এই পানীয় উপকারী। কাঞ্জি অনেক রকম ভাবেই তৈরি করা যায়। তবে পেটের রোগ সারাতে হলে একটি বিশেষ রকম কাঞ্জি তৈরি করতে হবে।
আমলকি-আদার কাঞ্জি
উপকরণ
৩-৪টি আমলকি
৫-৬ টুকরো কাঁচা হলুদ
৫-৬ টুকরো আদা
১ চামচ সর্ষের দানা
২ চামচ নুন
দেড় লিটার জল
প্রণালী
কাচের বড় জারে ঈষদুষ্ণ জল নিয়ে তাতে আমলকি, হলুদ, আদার টুকরো দিয়ে দিন। জলে নুন মেশান। এ বার সর্ষের দানা পিষে নিয়ে সেটি জলে মিশিয়ে দিন। এই সর্ষেই পানীয়টিকে গেঁজাতে সাহায্য করবে। সব ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে জারের মুখ ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। জারের মুখ পাতলা কাপড় দিয়েও ঢাকতে পারেন। ২-৩ দিন জারটিকে রেখে দিতে হবে। মাঝে মাঝে চামচ দিয়ে পানীয়টিকে নেড়ে নিতে হবে। তিন দিন পরে ঢাকা খুলে অন্য একটি পাত্রে পানীয়টি ঢেলে নিন। এটি সপ্তাহে ২-৩ দিন খেলে পেটের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হবে।