বাতের ব্যথায় কী খাবেন, কী খাবেন না? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বয়স বাড়লে বাতের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন অনেকেই। যথা সময়ে চিকিৎসা না করালে এবং জীবন যাপনে কিছু পরিবর্তন না আনলে সেই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। যাঁরা বাতের ব্যথায় ভোগেন, তাঁরা জানেন, ওই ব্যথা শুরু হলে হাঁটাচলা, বসা এমনকি, বিশ্রামের জন্য শোয়াও কতখানি যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস বা বাত তেমন বাড়লে হাত-পায়ের আঙুল বেঁকে যেতেও পারে। তাই আগে থেকে সচেতন হওয়া ভাল। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ এনেও বাতের ব্যথার ভোগান্তি কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস বিভিন্ন কারণে হতে পারে। জিনগত কারণে, কিংবা বাড়তি ওজনের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে রজোনিবৃত্তির পরবর্তী সময়ে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, সেই কারণেও বাতের ব্যথা শুরু হতে পারে। এ ছাড়া শরীরে ক্যালশিয়ামের ঘাটতিও অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের অন্যতম বড় কারণ। পু্ষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীর মতে, এমন কোনও ডায়েট নেই যা মেনে চললে রোগীর অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের সমস্যা একেবারে নির্মূল হয়ে যেতে পারে। তবে সঠিক ডায়েট মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। ডায়েট করে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, ফলে হাঁটুর উপর ততটাও ওজন পড়বে না। ডায়েট করে অস্থিসন্ধিগুলিকেও মজবুত করে তোলা সম্ভব।
অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস থাকলে কেমন হওয়া উচিত রোজের ডায়েট?
১) অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস থাকলে ডায়েটে প্রোটিন রাখা ভীষণ জরুরি। পেশির গঠনে, পেশির ক্ষয় রোধে এবং অস্থিসন্ধিগুলিকে মজবুত রাখতে প্রোটিন ভীষণ জরুরি। এর জন্য ডায়েটে রকমারি ডাল, মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, সয়াবিন রাখা যেতে পারে রোজের ডায়েটে। তবে সবেরই পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
২) হাড় মজবুত রাখতে ডায়েটে পর্যাপ্ত মাত্রায় ক্যালশিয়াম আর ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে রোজ দই, ছানা, দুধ, সবুজ শাকসব্জি, রকমারি বীজ, বাদাম খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে।
৩) ডায়েটে নুন-চিনির মাত্রা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বেশি মাত্রায় নুন-চিনি যুক্ত খাবার খেলে ওজনের পাশাপাশি শরীরে প্রদাহের মাত্রাও বাড়বে। আর প্রদাহ বাড়লে অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণার মাত্রাও বাড়বে। যে সমস্ত খাবারে সোডিয়াম আর চিনি বেশি, তা আর্থ্রাইটিসের রোগীদের না খাওয়াই ভাল। যে কোনও প্যাকেটজাত খাবার এবং ফাস্টফুডে নুন, চিনির মাত্রা বেশি থাকে, তাই সেইগুলি না খাওয়াই ভাল।
৪) ডুবো তেলে ভাজা খাবার যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ়, শিঙাড়া, তেলেভাজা, ফিশফ্রাই, ফিশফিঙ্গার জাতীয় খাবার প্রদাহ বৃদ্ধি করে। তাই এগুলি বেশি খেলে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়বে।
৫) অনুষ্ঠান বাড়িতে হোক কিংবা রেস্তকাঁয় কিংবা নিছক কড়া রোদে বেরিয়ে তেষ্টা মেটাতে বোতলবন্দি নরম পানীয়ে চুমুক দেন অনেকেই। এই ধরনের পানীয়ে ফসফরিক অ্যাসিড ভরপুর মাত্রায় থাকে। মাত্রাতিরিক্ত হারে এই ধরনের পানীয় খাওয়ার ফলে ফসফরিক অ্যাসিড শরীরে জমা হতে থাকে। এই অম্ল উপাদানটি হাড় ক্ষয়ের অন্যতম কারণ।