পদত্যাগপত্র দিয়ে বেরিয়ে পুরপ্রধান বিপ্লব দত্ত। —নিজস্ব চিত্র।
চার বছর আগে যে পুরসভা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল তৃণমূল, তার পুরপ্রধানও ইস্তফা দিলেন সোমবার। রাজ্যে তৃণমূল পরিচালিত প্রায় প্রত্যেক পুরসভাতেই একই পরিস্থিতি। ইস্তফা দিতে গিয়ে পুরপ্রধানরা বলছেন, কাজ করার পরিসর নেই। তবে সাঁইথিয়ার পুরপ্রধান বিপ্লব দত্তের ‘সমস্যা’ ভিন্ন। তিনি ‘আসল তৃণমূল’ চিনতে পারছেন না।
সোমবার সাঁইথিয়ার পুরপ্রধান বিপ্লব গিয়েছিলেন বীরভূম জেলাশাসক দফতরে। জেলাশাসককে তিনি ইস্তফাপত্র দিয়ে বেরিয়ে এসে জানান, পুরপ্রধানের সঙ্গে সঙ্গে কাউন্সিলর পদও ছাড়ছেন। বিপ্লবের মতো সাঁইথিয়া পুরসভার সিংহভাগ তৃণমূল কাউন্সিলর শীঘ্রই পদত্যাগ করবেন বলে খবর।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর বিপ্লবের মন্তব্য, “কোনটা প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস, সেটাই এখন বুঝতে পারছি না। একটি দলের এত ভাঙন... ! যাই হোক, সেটা বড়দের ব্যাপার। আমরা ছোট মানুষ। তবে সাধারণ মানুষও তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যার প্রমাণ বিধানসভা ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট। সেই কারণেই আমি চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” বিপ্লবই জানান, তিনি কাউন্সিলরদের জানিয়ে ইস্তফার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাঁরা সকলেই পদত্যাগ করবেন বলেছেন।
২০২২ সালে সাঁইথিয়া পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের ১৩টিতেই বিরোধীদের প্রার্থী ছিল না। তিনটিতে বামেরা প্রার্থী দিয়েছিল। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরসভা দখল করে তৃণমূল। তার প্রধান হন বিপ্লব। পুরপ্রধানের ইস্তফা নিয়ে তৃণমূলের তরফে কেউ কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। অন্য দিকে, বিজেপির কটাক্ষ, বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুরপ্রধান। ভয় দেখিয়ে বিরোধীদের ভোটে লড়তে দেওয়া হয়নি। নিজেরা ক্ষমতায় এসেছিলেন। এখন পরিস্থিতি দেখে নিজেরাই ক্ষমতা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাঁইথিয়া পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৪ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন।