বিপাকহার নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত।
ওজন কমানো যদি লক্ষ্য হয়, তবে প্রথমেই নজর দেওয়া উচিত বিপাকের হারে। কারণ, বিপাকহার ভাল থাকলে শরীরে যাওয়া খাবারকে ভেঙে শক্তিতে পরিণত হয় সহজেই। ভাল বিপাকহার শরীরে বাড়তি মেদ জমতে দেয় না। কিন্তু বিপাকহার ভাল না হলে শরীরে মেদ জমতে শুরু করে। ক্রমে তা স্থূলত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে অনেকেই পুষ্টিবিদের পরমর্শ মেনে নয়, নেটম্যাধ্যমের উপর নির্ভর করেন ডায়েট শুরু করে দেন। আর ডায়েটে এমন কিছু ভুল করে বসেন, যাতে বিপাকহার কমে যায়, ওজন ঝরানোর সমস্ত প্রয়াস মাটি হয়ে যায়। জেনে নিন, ডায়েট চলাকালীন কোন ৫ ভুলে বিপাকহার কমে যায়।
১) ক্যালোরি কমাতে উপোস: ওজন ঝরানোর জন্য ক্যালোরি বুঝে খাওয়া ভীষণ জরুরি। তবে ক্যালোরির মাত্রা কমাতে গিয়ে অনেকেই আবার প্রাতরাশ বা দুপুরের খাবার এড়িয়ে চলেন। তবে অনেক ক্ষণ খালি পেটে থাকলে বিপাকহার কমে যায়। ফলে ফ্যাট ঝরার বদলে শরীরে ফ্যাট জমতে সময় লাগে। বিপাকহার বৃদ্ধি করার জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ক্যালরি মেপে খেতে হবে। এর ফলে রক্তের শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে আর বিপাকক্রিয়াও ভাল হয়।
২) পর্যাপ্ত মাত্রায় প্রোটিন না খাওয়া: পর্যাপ্ত প্রোটিন পেশির ভর বজায় রাখতে সাহায্য করে, বিপাকক্রিয়ার হার বজায় রাখে এবং দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরাট রাখে। শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রায় প্রোটিন থাকলে খাবারের থার্মিক এফেক্ট বেড়ে যায়, অর্থাৎ শরীর হজমের সময় বেশি ক্যালরি খরচ করে। তাই প্রতি দিনের খাবারে মুসুর ডাল, পনির, ডিম, টোফু, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম বা চর্বিহীন মাংসের মতো খাবারগুলি রাখলে বিপাকক্রিয়ার হার বেড়ে যায়।
৩) অত্যধিক কম ক্যালোরি খাওয়া: অনেকেই ওজন ঝরাতে ক্রাশ ডায়েট মেনে চলেন। এই ডায়েটে প্রথম দিকে দ্রুত হারে ওজ্ন কমাতে পারলেও দীর্ঘ দিন ধরে এই ডায়েট করতে থাকলে বিপাক হার কমে যায়। যখন ক্যালোরির গ্রহণ খুব কম হয়ে যায়, তখন শরীর শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করে। এর ফলে ওজন ঝরানোর প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ক্যালোরির মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে না ফেলে ধীরে ধীরে কমানো জরুরি। আর শরীরে যাতে প্রয়োজনীয় ক্যালোরির জোগান ঠিকঠাক হয়, সে দিকেও লক্ষ রাখা উচিত।
৪) শরীরচর্চা না করা: ওজন ঝরাতে অনেকেই কেবল ডায়েটে মন দেন, শরীরচর্চাকে তেমন গুরুত্ব দেন না। পেশির টিস্যু কিন্তু বিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে। পেশির টিস্যু যত বেশি থাকবে, বিপাকের ক্ষেত্রে ততই তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। স্ট্রেংথ্ ট্রেনিং, যোগব্যায়াম, রেজিট্যান্স ট্রেনিং, এমনকি নিয়মিত হাঁটার মতো সহজ কার্যকলাপগুলি করলেও পেশির ভর বজায় থাকবে এবং বিপাকক্রিয়া চলতে থাকবে নিজের গতিতে।
৫) প্যাকেটজাত খাবারে না: বাজার ‘কম চর্বিযুক্ত’ ‘খাবার’, অথবা ‘স্বাস্থ্যকর’ লেবেলযুক্ত পণ্যে ভরে গেছে। তবে, এই খাবারগুলির মধ্যে লুকোনো থাকে চিনি, রাসায়নিক অথবা পরিশোধিত উপাদান, যা দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। বিপাকহার কমিয়ে দেয়, তাই এগুলি খাওয়ার আগে সতর্ক থাকুন।