‘স্বাস্থ্যকর’ গুড় আসলে কতটা স্বাস্থ্যকর? ছবি: সংগৃহীত।
চিনি খাবেন না বলে গুড় কিনে খাচ্ছেন। ভাবছেন স্বাস্থ্যকর মিষ্টি খাওয়া হল। ক্ষতি কম হল শরীরের। কিন্তু সত্যিই কি ক্ষতি কম হচ্ছে?
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, সচেতন না হয়ে খেলে গুড়ে আরও বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা, কারণ তাতেও নানা রকমের ক্ষতিকর ভেজাল মেশাচ্ছে কিছু ব্যবসায়ী। রাসায়নিক তো বটেই, চকের গুঁড়ো, সাদা বালি এমনকি কাপড় কাচার সোডাও মেশানো হচ্ছে গুড়ে। যা শরীরে নিয়মিত গেলে নানা রকমের অসুখ হতে পারে।
গুড় ভারতীয় রান্নাঘরে সারা বছর মজুত থাকে। বাঙালি রান্নাঘরে আবার শীতে আসে নলেন গুড়, খেজুর গুড়ের পাটালি। আখের গুড় সারা বছর থাকেই। ইদানীং যেহেতু স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ চায়ে এবং খাবারে চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করছেন, তাই গুড় বিক্রির ধরনও বদলেছে। স্মার্ট প্যাকেজিংয়ে বিক্রি হচ্ছে গুড়। ঝকঝকে কৌটোয় জ্যাগারি পাউডার বা শৌখিন মোড়কে পাওয়া যাচ্ছে জ্যাগারি কিউব। কিন্তু সেই সব মোড়কের আড়ালে আসলে কি থাকছে, তা জানতে পারছেন না কেউ। গুড়েও ভেজাল মিশতে পারে এমন ভাবনাই মাথায় আসছে না কারও। আর সেই বিশ্বাসেরই সুযোগ নিয়ে বোকা বানাচ্ছেন কিছু অসৎ ব্যবসায়ী। যাদের কারসাজি থেকে সতর্ক করেছে খাদ্যসুরক্ষা দফতর। জানিয়েছে, কী ভাবে পরীক্ষা করে ধরতে হবে ভেজাল মেশানো গুড়।
সব মিলিয়ে সহজ চারটি পরীক্ষা করতে বলেছে এফএসএসএআই
১। জলের পরীক্ষা: সামান্য গুড় নিয়ে জলে ভাল ভাবে গুলে দিন। এর পরে কিছু ক্ষণ রেখে দিন। যদি খাঁটি গুড় হয় তবে জলে সম্পূর্ণ গুলে যাবে। যদি ভেজাল মেশানো থাকে, তবে চকের গুঁড়ো বা সাদা আস্তরণ জমা হবে তলানিতে।
২। রঙের পরীক্ষা: খাঁটি গুড়ের রং হবে কালচে বা লালচে খয়েরি। যদি গুড় হলুদ হয়, সোনালি আভা থাকে বা সাদাটে হয়, তবে বুঝতে হবে, তাতে রাসায়নিক মেশানো হয়েছে।
৩। স্বাদের পরীক্ষা: যদি গুড়ের স্বাদে হালকা নোনতা ভাব থাকে, তবে বুঝতে হবে তাতে খনিজ পদার্থ মেশানো হয়েছে। যদি ঝোলাগুড়ের মতো গন্ধ না থাকে আর বেশি মিষ্টি লাগে, তবে তাতে চিনি বা সুগার সিরাপ মেশানো হয়েছে। যদি তেঁতো ভাব থাকে, তা হলেও বুঝতে হবে রাসায়নিক ভেজাল মেশানো হয়েছে।
৪। অম্লতার পরীক্ষা: অল্প একটু গুড়ে লেবুর রস অথবা ভিনিগার মেশান। যদি ফেনা তৈরি হয়, তবে বুঝতে হবে তাতে কাপড় কাচার সোডার মতো রাসায়নিক মেশানো হয়েছে।
এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা যেতে পারে
৫। অ্যালকোহল পরীক্ষা: যে কোনও অ্যালকোহল নিন ৩ মিলিলিটার। তাতে অল্প পরিমাণে গুড় ভেঙে দিন। ভাল করে মিশ্রণটিকে ঝাঁকানোর পরে তাতে ১০ ফোঁটা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দিলে যদি রং গোলাপি হয়, তবে বুঝতে হবে তাতে রাসায়নিক রং মেশানো হয়েছে। যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
৬। আগুনের পরীক্ষা: চামচে সামান্য গুড় নিয়ে আগুনে ধরুন। খাঁটি গুড় গলে যাবে। কিন্তু ভেজাল মেশানো গুড় থেকে কালো ধোঁয়া এবং খারাপ গন্ধ বেরোবে।
ভেজাল গুড় খেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে?
গুড়ে অনেক সময় রাসায়নিক রং মেশানো হয়, নিয়মিত ভাবে যা শরীরে গেলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চকের গুঁড়ো, বালি, খাবার সোডা ক্ষতি করতে পারে কিডনি এবং লিভারের। ক্ষতি হতে পারে অন্ত্রেরও।