ত্বকের বার্ধক্য ঠেকাতে গ্লুটাথিয়োন নিচ্ছেন অনেকে, কী সেটি? ছবি: ফ্রিপিক।
বয়স ধরে রাখতে গ্লুটাথিয়ন নিচ্ছেন অনেক মহিলাই। এটি এমন এক উপাদান যা খুব তাড়াতাড়ি নিষ্প্রাণ ত্বকে তারুণ্যের জেল্লা এনে দিতে পারে। বয়সকে আটকে রাখতে পারে। এককথায়, সৌন্দর্যের সহজ রাস্তা খুলে দিতে পারে গ্লুটাথিয়োন। কোনও রকম ক্রিম বা প্রসাধনী না মেখেই নিজেকে মোহমরী করে তোলার এই সহজ পন্থায় গা ভাসাচ্ছেন কমবয়সি থেকে মধ্যবয়সিরা। কিন্ত আদৌ কি সেটি সকলের জন্য নিরাপদ?
গ্লুটাথিয়োন কী ভাবে কাজ করে?
গ্লুটাথিয়োন এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা দেহকোষেই তৈরি হয়। অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, রাত জাগা, ধূমপান ও মদ্যপানের ফলে আমাদের শরীরে এর মাত্রা কমতে থাকে। সেই মাত্রা বাড়িয়ে ত্বকের জেল্লা ফেরাতে বাইরে থেকে ইঞ্জেকশন নিতে হয়। তিন রকম অ্যামাইনো অ্যাসিড— গ্লুটামেট, গ্লাইসিন ও সিস্টাইন নিয়ে গ্লুটাথিয়োন তৈরি হয়। অনেক সালোঁয় যে ‘স্কিন লাইটনিং ফেশিয়াল’ করা হয় তাতে গ্লুটাথিয়োন প্রয়োগ করা হয়। তা ছাড়া ওষুধ, ইঞ্জেকশন, আইভি ড্রিপের মাধ্যমে বা কিছু ক্ষেত্রে ইনহেলারের মাধ্যমেও গ্লুটাথিয়োন নেওয়া যেতে পারে।
আইভি ড্রিপের মাধ্যমে নিলে সরাসরি গ্লুটাথিয়োন ত্বকের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে।
সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হল গ্লুটাথিয়োন ক্যাপসুল বা ইঞ্জেকশন। এর মাধ্যমেও শরীরে ঢোকানো হয় এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট।
ইনহেলারের মাধ্যমেও গ্লুটাথিয়োন নেওয়ার পদ্ধতি আছে। ত্বকের বার্ধক্য ঠেকাতে সেটিও নেন অনেকে।
কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
গ্লুটাথিয়োন নির্দিষ্ট ডোজ়ে নিতে হয়, বেশি নিলেই বিপদ ঘটতে পারে। বেশি মাত্রায় এটি নিলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাকবচ নষ্ট হতে পারে।
বেশি গ্লুটাথিয়োন নিলেই যে ত্বক আরও জেল্লাদার, সুন্দর হবে, এমনটা নয়। দীর্ঘকাল ধরে উচ্চ মাত্রায় গ্লুটাথিয়ন নিলে হার্ট, কিডনি, লিভার অচল হয়ে পড়তে পারে।
ডায়াবিটিসের রোগী বা কিডনির রোগের ওষুধ খেলে গ্লুটাথিয়োন থেরাপি বিপজ্জনক হতে পারে। আবার যাঁর হাঁপানি বা সিওপিডি আছে, অথবা অ্যালার্জির ধাত আছে, তাঁদের জন্যও এই থেরাপি নিরাপদ নয়।
শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে নানা ধরনের সংক্রামক রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
ওষুধ খাওয়া বা ইঞ্জেকশন নেওয়া বন্ধ করলে ত্বক আরও বেশি কালচে দেখাবে। নিষ্প্রাণ হয়ে পড়বে।