কোন বয়সে কতটা হাঁটা দরকার। ছোট থেকে বড়— জেনে নিন নিয়ম। ছবি: সংগৃহীত।
শরীরচর্চার সহজ উপায় হাঁটা, বলেন চিকিৎসকেরা। যাঁরা নিয়ম করে ব্যায়াম করেন না, তাঁরাও যদি সময় করে খানিক ক্ষণ হাঁটেন, সুস্থ থাকবে শরীর। হাঁটলে শুধু মেদ কমে না, ব্যায়াম হয় সারা শরীরেই। রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়, হার্ট ভাল থাকে। কিন্তু হাঁটবেন কতক্ষণ?
চিকিৎসকেরা বলছেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরেও বদল আসে। আমাদের পেশি, অস্থিসন্ধি, হার্ট-এর ক্ষমতা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। ২০ বছর বয়সে শরীর যেমন থাকে, ৬০-এ পৌঁছে সেই ক্ষমতা থাকে না। হাঁটাও যেহেতু শরীরচর্চা, তাই বয়স অনুযায়ী শরীরের প্রত্যঙ্গগুলি কী ভাবে প্রতিক্রিয়া করছে বুঝে, কতক্ষণ হাঁটতে হবে তা নির্ধারণ করা দরকার।
৫-১২ বছর
এই বয়স বেড়ে ওঠার। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সময় ঘণ্টা খানেক হাঁটা যেতে পারে। এক বারেই যে এক ঘণ্টা হাঁটতে হবে তা নয়। ৫-১২ বছর বয়সে পেশি সবল হয়। হাড় মজবুত হয়। তা ছাড়া, হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অঙ্গ সঞ্চালন খুব জরুরি। হাঁটা মানে শুধু নিয়ম করে হাঁটা না-ও হতে পারে। এই বয়সের ছেলেমেয়েরা দৌড়াদৌড়ি করলে, খেলাধুলো করলেও কিন্তু তা হাঁটার মতোই কাজ করবে।
১৩-১৯ বছর
১৩-১৯ বছরের ছেলেমেয়েরাও প্রতি দিন ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা করে হাঁটলে বা খানিকটা খেলাধুলো করলে শরীর ভাল থাকবে। হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য হাঁটা এবং দৌড়োনো ভাল।
২০-৪০ বছর
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বদল ঘটে। ২০-৩০-এ শরীর যতটা তরতাজা থাকে ৩৫-এর পর ততটা বল শরীরে থাকে না। বয়সকালেও সুস্থ থাকতে হলে হাঁটাহাটির অভ্যাস কম বয়স থেকে করা উচিত। কারণ, হাঁটলে পেশির জোর বাড়ে, হার্টের স্বাস্থ্য ভাল থাকে, শরীর সবল থাকে। ২০-৪০ বছরে মোটামুটি ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটতে পারলে ভাল।টানা যে ৪৫ মিনিট হাঁটতে হবে তা নয়। তবে দিনে ভাগ ভাগ করেও হাঁটা যায়। হাঁটার গতি কোনও সময় বাড়িয়ে নিলে ক্যালোরি খরচের মাত্রা বাড়ে। উপকারিতাও বেশি মেলে।
৫০ বছর
৫০-এর দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলে হাঁটার সময় আরও একটু কমিয়ে দিতে পারেন। ৩০-৪০ মিনিট হাঁটলেই হবে।চাইলে কেউ ৪৫ মিনিটও হাঁটতে পারেন। নির্ভর করবে শারীরিক সক্ষমতার উপরে। কারণ, এই বয়সে এসে অনেকেরই হাড় দুর্বল হতে শুরু করে, গোড়ালি, হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়। শরীর বুঝে হাঁটার সময় নির্ধারণ করতে হবে। বেশি জোরে বা কিছুক্ষণ হেঁটে হাঁপ ধরে গেলে, বিরতি নিতে হবে।
ষাটোর্ধ্ব
বয়স ৬০ বছর পার হলে, শরীর অশক্ত হয়ে পড়ে। তবে দৈহিক ভারসাম্য রক্ষা, ওজন বশে রাখা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা রক্ষার জন্য নিয়ম করে হাঁটাহাটি করা জরুরি। ২০-৩০ মিনিট হাঁটলেই হবে। টানা হাঁটলে যদি কষ্ট হয়, তা হলে বিরতি নিয়ে হাঁটা যেতে পারে।