পেঁপে কী ভাবে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য নির্মূল হবে? ছবি: ফ্রিপিক।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কষ্ট সহজে কমার নয়। যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে ভুগছেন, তাঁরাই বোঝেন যন্ত্রণা কতটা। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে খাবার মেপে খেতে হয়, তেল-মশলা দেওয়া খাবার একেবারে বাদ দিতে হয়। কী খেতে হবে ও কী নয়, তা নিয়ে আলোচনা চলেই। কোষ্ঠকাঠিন্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভুগছেন যাঁরা এবং ওষুধ খেয়ে বা ডায়েটে বদল এনেও বিশেষ লাভ হয়নি, তাঁরা পেঁপে খেয়ে দেখতে পারেন। পেঁপেতে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান আছে যা বিপাকক্রিয়ায় সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নির্মূল করতে পারে। তবে পেঁপে কী ভাবে খেলে উপকার হবে, তার নিয়ম আছে।
কেন পেঁপে উপকারী?
পেঁপেতে রয়েছে 'প্যাপাইন' নামক এক ধরনের উৎসেচক। এটির কাজ হল প্রোটিন জাতীয় খাবার ভেঙে তা পরিপাকে সহায়তা করা। পেঁপে খেলে শরীরে পর্যাপ্ত প্যাপাইন ঢুকবে, ফলে অন্ত্রে খাবার জমে পচে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।
পেঁপেতে জলের মাত্রা বেশি যা বিপাকে সহায়ক। পাশাপাশি, পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে পারে।
পেঁপে কী ভাবে খাবেন?
কাঁচা পেঁপে ও তিসি
কাঁচা পেঁপে, আলু ও পটল ডুমো ডুমো করে কেটে কম তেলে জিরে-আদা ফোড়ন দিয়ে হালকা ঝোল রেঁধে নিন। নামানোর আগে ১ চামচ ভাজা তিসিগুঁড়ো উপর থেকে ছড়িয়ে দিন। ভাতের সঙ্গে বা রুটির সঙ্গে খেতে পারেন। পেঁপের ফাইবার ও তিসির ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পেট পরিষ্কার করতে সহায়ক হবে।
পেঁপে ও চিয়ার স্মুদি
১ কাপ পাকা পেঁপের টুকরো, আধ কাপ টক দই এবং ১ চামচ আগে থেকে জলে ভিজিয়ে রাখা চিয়া বীজ মিক্সিতে ব্লেন্ড করে নিন। এতে চিনি দিলে হবে না। প্রয়োজনে সামান্য মধু দিতে পারেন। সকাল জলখাবারে খেতে পারেন।
জোয়ান ও বিটনুন মাখা পেঁপে
এক বাটি পাকা পেঁপের টুকরোর উপর সামান্য বিটনুন, লেবুর রস এবং আধ চামচের মতো জোয়ানের গুঁড়ো ছড়িয়ে ভাল করে মেখে নিন। বিকেলের টিফিনে এটি খেতে পারেন।
পেঁপে ও ওট্সের ক্ষীর
ওট্স সামান্য জলে বা দুধে সেদ্ধ করে নিন। এর সঙ্গে পাকা পেঁপের টুকরো মিশিয়ে ক্ষীরের মতো বানিয়ে নিন। সারা রাত ফ্রিজে রাখুন। সকালের জলখাবারে এটি খেলে উপকার হবে।
পেঁপে ও অ্যালো ভেরার জুস
১ কাপ পাকা পেঁপের রসের সঙ্গে ২ চামচ টাটকা অ্যালো ভেরা জেল এবং সামান্য পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন। সকালে খালি পেটে বা ভারী খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে এই ডিটক্স পানীয়টি পান করুন।