কী ভাবে রোজের খাবারে জুড়বেন সজনেপাতা? ছবি: সংগৃহীত।
সজনে ডাঁটা থেকে সজনে ফুল— ভারতে খাওয়ার চল নতুন কিছু নয়। তবে ‘মোরিঙ্গা’ নিয়ে সমাজমাধ্যমে হইহই শুরু হতেই নতুন করে সজনেপাতার কদর বেড়েছে। মোরিঙ্গা আসলে সজনেপাতার গুঁড়ো। এই গুঁড়োই এখন দেশ-বিদেশে কৌটোজাত হয়ে বিক্রি হচ্ছে। প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালশিয়াম, আয়রন, জ়িঙ্ক, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো জরুরি বেশ কিছু খনিজ রয়েছে সজনেপাতায়। ডাঁটা এবং ফুলের মতোই পাতাও পুষ্টিগুণে ভরপুর। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে এতে। এটি রোগ প্রতিরোধকও।
শাক হিসাবে সজনেপাতা খাওয়াই যায়। আর কী ভাবে প্রতি দিনের খাদ্যতালিকায় জু়ড়বেন সজনেপাতা?
সজনেপাতার ডাল
সজনেপাতা দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ডাল। ছবি: সংগৃহীত।
মুসুর, মুগ, অড়হর ডাল ব্যবহার করতে পারেন। নুন-হলুদ দিয়ে ডাল সেদ্ধ করে নিন। কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম হলে শুকনো লঙ্কা, সর্ষে ফোড়ন দিন। পেঁয়াজকুচি দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে ধুয়ে রাখা সজনেপাতা, নুন-হলুদ দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন। পাতা নরম হয়ে গেলে ভেজে নিন। সেদ্ধ ডাল ঢেলে ফুটিয়ে নিন।
সজনেপাতার ভর্তা
সজনেপাতার ভর্তা।
কড়াইয়ে তেল দিয়ে সজনেপাতা নুন-হলুদ দিয়ে ভেজে নিন। ২-৩টি শুকনো লঙ্কা, কয়েক কোয়া রসুনও হালকা ভেজে তুলে রাখুন। সমস্ত উপকরণ মিক্সারে ঘুরিয়ে নিন। গরম ভাতে সজনেপাতার ভর্তা দারুণ লাগবে।
সজনেপাতার পরোটা
সজনেপাতা দিয়ে বানিয়ে নিন পরোটা। ছবি:সংগৃহীত।
সজনেপাতা ভাল করে ধুয়ে কুচিয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। আটা এবং ময়দা সমান পরিমাণে মিশিয়ে নিন। ঘি বা সাদা তেল দিয়ে ময়ান দিন। নুন যোগ করুন। জল ঝরিয়ে রাখা সজনেপাতা মিশিয়ে ভাল করে আটা-ময়দা মেখে নিন। আধ ঘণ্টা কাপড় দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন মাখা আটা। তার পর পরোটা বানিয়ে নিন।
সজনেপাতার ব়ড়া
সজনেপাতা কুচিয়ে ধুয়ে রাখুন। এতে যোগ করুন পেঁয়াজ কুচি, লঙ্কা কুচি, আদা কুচি, রসুন কুচি। বেসন এবং অল্প চালের গুঁড়ো দিয়ে ভাল করে মাখুন। দিয়ে দিন স্বাদমতো নুন, গুঁড়ো লঙ্কা। সামান্য জল যোগ করুন। তার পর বড়া করে তেলে ভেজে নিন।
সজনেপাতার ঝোল
নিরামিষ বা আমিষ ঝোল রান্নার সময় মশলার সঙ্গে আলু, পটল বা অন্য সব্জি হালকা কষানো হয়। এই সময় ধুয়ে রাখা সজনেপাতা কুচিয়ে যোগ করুন। পাতাটিও মশলা এবং সব্জির সঙ্গে ভেজে নিন যাতে কাঁচা গন্ধ চলে যায়। তার পর গরম জল দিয়ে ফুটিয়ে নিন।