Weight Regain Prevention

ওজন ঝরিয়েছেন রাতদিন পরিশ্রম করে, ফের মেদ জমছে? ৭টি পন্থা মেনে বজায় রাখুন ছিপছিপে শরীর

ডায়েট শেষ হওয়া এবং মেদ ঝরে যাওয়ার কয়েক মাস পরে অনেকেই আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে যান। ডায়েটের ভুলে ওজন ধরে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই ভুলগুলি শুধরে নেওয়া দরকার ডায়েট শুরু এবং শেষের পরেও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১৬:২৬
Share:

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল। ছবি: সংগৃহীত।

ওজন কমানো অনেকের কাছেই যুদ্ধের মতো ব্যাপার। কিন্তু তার থেকেও কঠিন হল সেই ওজন ধরে রাখা। কারণ, ডায়েট শেষ হওয়া এবং মেদ ঝরে যাওয়ার কয়েক মাস পরে অনেকেই আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে যান। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে জার্মানি নিবাসী ফিটনেস প্রশিক্ষক কেভ দাবি করেছেন, যাঁরা ওজন কমান, তাঁদের প্রায় ৯৫ শতাংশই পরে সেই ওজন ফের বাড়িয়ে ফেলেন। তবে এর জন্য ব্যক্তি নয়, দায়ী হতে পারে ডায়েটের ভুল পদ্ধতি। আর এই প্রবণতা দূর করতে ১১টি পন্থা অবলম্বন করতে বলেছেন তিনি।

Advertisement

১. কেভের মতে, ডায়েট শুরুর সময়ে বেশির ভাগ মানুষই জীবনে একসঙ্গে অনেক বদল আনার চেষ্টা করেন। হঠাৎ সব প্রিয় খাবার ত্যাগ করা, খাবারের পরিমাণ আচমকা অনেকটা কমিয়ে ফেলা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা— এ ধরনের অভ্যাস বদল দীর্ঘ মেয়াদে টেকে না। ফলে কিছু দিন পরেই পুরনো অভ্যাস ফিরে আসে। আর ওজন বেড়ে যায়। তাই নিজের রুটিনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই পরিবর্তন করা উচিত। এক ধাক্কায় যাপন সম্পূর্ণ বদলে ফেলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হবে।

আবার ওজন বেড়ে যাচ্ছে কেন? ছবি: সংগৃহীত

২. খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধির পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। কারণ, খাবার হজম করার সময়ে ক্যালোরি পোড়ায়, প্রোটিন দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে, অতিরিক্ত খিদে ভাব কমায় এবং ওজন কমানোর সময় পেশিক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে দেয় না। তাই প্রতি বার খাওয়ার সময়ে পাতে প্রোটিন রাখা দরকার। ফিটনেস প্রশিক্ষকের পরামর্শ, দিনে ১৪৪-১৮০ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া উচিত।

Advertisement

৩. ফাস্ট ফুড এক বারে বন্ধ না করে বুদ্ধি করে খেতে হবে। যাতে বার বার অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি লোভ বৃদ্ধি না পায়, সেই কারণে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। গ্রিল করা খাবার খেতে পারেন, অথবা চিকেনে ভর্তি স্যালাডও অর্ডার করতে পারেন রেস্তরাঁ বা ক্যাফেতে গিয়ে।

কেমন ডায়েট আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর হবে? ছবি: সংগৃহীত

৪. সান্ধ্য খিদের সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকেই হাত চলে যায় বারে বারে? এই প্রবণতা কমাতে খাবারে অদলবদল করা প্রয়োজন। যেমন খাবার পছন্দ, তেমনই পদ রাখুন পাতে, কিন্তু উপকরণ যেন স্বাস্থ্যকর হয়। প্রোটিনসমৃদ্ধ হালকা খাবার যেমন, প্রোটিন বার, প্রোটিন চিপ্‌স, দই ইত্যাদি খাওয়ার কথা বলেছেন প্রশিক্ষক। তাঁর মতে, ছোট ছোট বদলই দীর্ঘ মেয়াদে বেশি কার্যকর।

৫. রোজ সকালে প্রোটিন পাউডার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। সকাল ৯টার আগে যদি ৩০-৬০ গ্রাম প্রোটিন খেয়ে নেওয়া যায়, তা হলে সারা দিনের চাহিদা নিয়ে অত ভাবতে হবে না।

৬. রাত জেগে সিনেমা দেখা, বই পড়ার অভ্যাস এখন ঘরে ঘরে। আর সে সময়ে একটানা মুখ চালাতে ইচ্ছে করে অনেকের। কিন্তু ঘুমের ঠিক আগে খাবার খেলে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে। আর ঘুম কম হলে পরের দিন খিদের বোধ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায় ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। তাই শোয়ার অন্তত দু’তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

৭. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে মদ্যপান কমানো জরুরি। কারণ, শরীর প্রথমে অ্যালকোহল ভাঙতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ফলে চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে ঘুমের মান এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও জড়িত। ফলে মেদ ঝরানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

অত্যন্ত কঠোর ডায়েট সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না। স্থায়ী ফল পেতে গেলে জীবনযাপনের অভ্যাসকে নিজের পছন্দের সঙ্গে আপস না করেই নতুন ছাঁদ দিতে হবে।

(এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি আপনার জন্য কার্যকর কি না তা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement