রক্তে হঠাৎ শর্করা কমে যাওয়ার কারণ কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়া বিপজ্জনক ব্যাপার। এই রোগকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। এর ফলে শরীর কাঁপতে শুরু করে, অতিরিক্ত ঘাম হয়, মাথা ঘোরে, প্রচণ্ড খিদে পায়, হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়ে যায়, বিভ্রান্তি তৈরি হয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে এবং অসম্ভব দুর্বলতা দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, হার্ট অ্যাটাক, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই রক্তে সুগার কমে যাওয়া নিয়ে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকা দরকার। কারণ, কখনও কখনও এক মুহূর্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে।
রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেলে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে বোঝা যায় না। কেবল ক্লান্তি বা দুর্বলতা ভেবে উপেক্ষা করেন অনেকে। অথচ সেই মুহূর্তেই গ্লুকোজ় খাইয়ে বা চিনি, মিষ্টি, ফলের রস ইত্যাদি খাইয়ে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়াতে হবে। তার ১৫ মিনিট পর গ্লুকোমিটারে সুগার মেপে দেখতে হবে। এ ভাবেই চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে রোগীর জীবন বাঁচানো যেতে পারে বলে পরামর্শ চিকিৎসকদের। কিন্তু যদি ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যান বা খেতে না পারেন, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া জরুরি।
রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেলে কী করবেন? ছবি: সংগৃহীত
মানুষের মস্তিষ্ক মূলত গ্লুকোজ়ের উপর নির্ভর করে শক্তি পায়। শরীরের অন্য অঙ্গগুলির মতো এটি নিজে থেকে গ্লুকোজ় তৈরি বা সঞ্চয় করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করা কমে গেলে মস্তিষ্কের কাজ ব্যাহত হতে শুরু করে। আর তা থেকেই সমস্ত সমস্যার সূত্রপাত।
কী দেখে বুঝবেন, শরীরে শর্করার মাত্রা কমে গিয়েছে?
প্রাথমিক ভাবে বিভ্রান্তি, খিটখিটে মেজাজ, ঝাপসা দেখা, অস্বাভাবিক আচরণের মতো উপসর্গগুলি লক্ষ করা যায়। সময় মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। তখন খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকি স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতিও হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় যাওয়ার আগে শরীর সাধারণত কিছু সঙ্কেত দেয়। এই লক্ষণগুলিকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। কিন্তু যদি অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মাথা ঘোরা, হঠাৎ প্রবল খিদে পাওয়া, উদ্বেগ বা অস্থিরতা, মনোযোগে সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, নয়তো তা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছোতে পারে।
কী কারণে হঠাৎ শর্করা কমে যায়?
রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়ার নেপথ্যে বেশ কিছু সাধারণ কারণ থাকে। বিশেষ করে ডায়াবিটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
· ইনসুলিন বা ওষুধের ভুল ডোজ়
· খাওয়া বাদ দেওয়া বা দেরিতে খাওয়া
· ঠিক মতো না খেয়ে অতিরিক্ত ব্যায়াম করা
· খালি পেটে অ্যালকোহল পান করা