Persistent Cough

জ্বর নেই, অথচ কাশি কমছে না, কারণটা কোভিড নয়, তবে কি নতুন ভাইরাস?

ভাইরাল জ্বর হলে তা ৭ থেকে ১০ দিন পরে সেরে যায়। কিন্তু জ্বর সেরে যাওয়ার পরেও কাশি কমছে না অনেকের। নাগাড়ে কাশি ভোগাচ্ছে। এর কারণ কী? কোনও ভাইরাসের প্রকোপ কি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৮
Share:

কাশি কমতে চাইছে না, কারণ কি ভাইরাস? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

জ্বর নেই। অথচ কাশি কমছেই না। ভাইরাল জ্বর বা ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি হয়ে জ্বর হলে তা সেরে যায় ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে। কিন্তু এ কাশি কমার নাম নেই। কাশির ওষুধ খেয়েও লাভ হচ্ছে না। ঘরে ঘরে এমন সমস্যা অনেকেরই হচ্ছে। জ্বর সেরে গেলেও কাশি সারতে চাইছে না। অনেকেই ভাবছেন, কোভিডের কারণেই হয়তো এমন হচ্ছে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, কোভিড নয়, এমন নাছোড়বান্দা কাশির কারণ অনেক কিছু হতে পারে। মূলত ইনফ্লয়েঞ্জার সংক্রমণে এমন কাশি ভোগাচ্ছে অনেককে। আবার রাইনোভাইরাসের প্রকোপও থাকতে পারে। নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের প্রকোপও অস্বীকার করছেন না চিকিৎসকেরা।

Advertisement

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকের চেম্বারে প্রতি দিনই জ্বর-কাশির রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে গায়ে, হাতে বা পায়ে ব্যথা। চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মত, দূষণ ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে অ্যালার্জির সমস্যা থাকা রোগীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। কোন ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হয়েছে, তা জানতে ভাইরাল-প্যানেল পরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু সকলের পক্ষে তা করা সম্ভব নয়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে।

কাশির কারণ কী?

Advertisement

জ্বরের পর অনেক সময়ে নাক ও শ্বাসনালিতে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা বা মিউকাস জমে থাকে। সেটিই অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। তার থেকে কাশি হতে পারে। আবার ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ হলে শ্বাসনালি প্রচণ্ড সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তখন বাতাসের ধূলিকণা, ফুলের রেণু বা সামান্য সুগন্ধির গন্ধেও শ্বাসনালিতে প্রদাহ শুরু হয়। যে কারণে কাশির দমক ওঠে। এই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ব্রঙ্কিয়াল হাইপার-রেসপন্সিভনেস।’

রাইনোভাইরাসের কারণেও শুকনো কাশি ভোগাতে পারে। রাইনোভাইরাস নাক এবং গলার মিউকাস মেমব্রেনে বাসা বাঁধে। সেখানেই বংশবিস্তার করে। শ্বাসনালির উপরের স্তরে স্নায়ুকোষগুলির ক্ষতি করে এই ভাইরাস। ফলে শ্বাসনালির ভিতরের স্নায়ুগুলি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং অল্পেই ঠান্ডা লেগে যাওয়া বা অ্যালার্জির সমস্যা শুরু হয়। রাইনোভাইরাস ফুসফুসের ভিতরের বায়ুপথকে সঙ্কীর্ণ করে দেয়, ফলে শুকনো কাশি শুরু হয়। একে বলে ব্রঙ্কোস্প্যাজ়ম।

আরও এক ভাইরাসের কথা জানালেন চিকিৎসক, তা হল রেসপিরেটারি সিনসিটিয়াল ভাইরাস। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের কাশির কারণও হল এই ভাইরাস। এর সংক্রমণ হলে কাশির পাশাপাশি গলায় ও বুকে ব্যথাও হয়।

কাশির কারণ যা-ই হোক না কেন, নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা কাশির সিরাপ খেতে বারণই করছেন চিকিৎসক। কাশি যদি সাত দিনের বেশি থাকে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ফুসফুসে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ হচ্ছে কি না বা জল জমছে কি না, তা জানতে চেস্ট এক্স-রে করিয়ে নিতে হবে। কাশির সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্টের সমস্যাও থাকে, তা হলে পালমোনারি ফাংশন টেস্ট করিয়ে নেওয়া জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement