কফির বদলে সকাল শুরু করবেন প্রোফিতে? ছবি:সংগৃহীত।
ডালগোনা থেকে মাশরুম কিংবা ঘি কফি— সমাজমাধ্যমে কফি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিস্তর। নতুন স্বাদ, নতুন রূপে কফি পানে আগ্রহীর সংখ্যাও কিছু কম নয়। সেই তালিকায় সংযোজন ‘প্রোফি’।
দিনে দিনে স্বাস্থ্যসচেতন হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের একাংশ। বয়স্কদের অনেকেই স্বাস্থ্যরক্ষার গুরুত্ব বুঝেছেন। শারীরচর্চাকারীদের কথা ভেবেই তৈরি এই পানীয়। কফি এবং প্রোটিনের মিশেলে তৈরি প্রোটিন কফিই সংক্ষেপে হয়েছে ‘প্রোফি’। এমন ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে, অনেক বাণিজ্যিক সংস্থাই তা বানাতে শুরু করেছে। কিন্তু সত্যি কি প্রোফি স্বাস্থ্যকর! না কি শুধুই তা নিয়ে গালভরা গল্পকথা শুরু হয়েছে?
প্রোফি কতটা স্বাস্থ্যকর?
তবে প্রোফি বলতে সকলেই এক পন্থা অনুসরণ করছেন না। অনেকেই নিয়ম করে প্রোটিন শেক খান। এ দিকে যাঁদের দিন কফি ছাড়া শুরু হয় না, তাঁরা কী করবেন? তা থেকেই প্রোটিন পাউডার এবং কফিতে মিলিয়ে দেওয়ার ভাবনা। কফির ক্যাফিন শরীরে গেলে স্নায়ু চনমনে হবে, আবার প্রোটিন পাউডার শরীরে প্রোটিনের চাহিদাও মেটাবে। বিষয়টি সহজ করলে দাঁড়ায়, আলাদা করে সকালে কফিতে চুমুক দেওয়ার বদলে শারীরচর্চার আগে কফি এবং প্রোটিন শেককে মিলিয়ে দেওয়া।
সচিন-কন্যার প্রোটিন কফি
বেশ কিছু দিন আগে সচিন তেন্ডুলকরের মেয়ে সারা তেন্ডুলকর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছিলেন তাঁর বিশেষ প্রোটিন কফির কথা। সারা সুন্দর এবং ছিপছিপে চেহারার জন্য সমাদৃত। পাবলিক হেলথ এবং নিউট্রিশন নিয়েও পড়াশোনা করেছেন তিনি। কফি পাউডার, কোকো পাউডার, ভেজানো চিয়াবীজ এবং কাঠবাদামের দুধের ‘প্রোফি’ খান তিনি।
পুষ্টিবিদ সিমরত কাঠুরিয়ার কথায়, ‘‘প্রোটিন শেকের ক্যাফেইনের ছোঁয়া, এটি হল প্রোফির বৈশিষ্ট্য। সেই কারণে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে পানীয়টি জনপ্রিয় হচ্ছে।’’ শরীর ভাল রাখতে উপযুক্ত পুষ্টির দরকার। আর সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে প্রোটিন। বিশেষত যাঁরা নিয়ম করে শারীরচর্চা করেন তাঁদের প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি। সকালে কফি, তার পর প্রোটিন শেক খেয়ে শারীরচর্চার মাঝের দূরত্ব ঘুচিয়ে প্রোফির জন্ম।
কফিতে থাকে ক্যাফিন। মস্তিষ্ক কার্যকর রাখতে, স্নায়ু চাঙ্গা রাখতে এই উপাদানটি জরুরি। কিন্তু বেশি ক্যাফেইন স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল নয়। ফলে প্রোটিন এবং কফি মিশলে, এক দিকে যেমন ক্যাফিনের উপকারিতা মিলবে, তবে প্রোটিন পেট ভরাবে, আবার শক্তিও জোগাবে, বলছেন পুষ্টিবিদেরা।