Diabetes Risk

সুগার নেই বলে খাওয়াদাওয়া বেলাগাম! কোন অভ্যাস নিঃশব্দে বাড়িয়ে দিতে পারে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি

খাওয়ায় অনিয়ম থেকে কম ঘুম, আর কোন অভ্যাসে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপদসীমা ছুঁতে পারে? ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমবে কী ভাবে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫৭
Share:

জিনগত কারণ ছাড়াও হতে পারে ডায়াবিটিস। কোন অভ্যাস এমন অসুখের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে? ছবি: সংগৃহীত।

ডায়াবিটিস হলে চিনি খাওয়া বারণ, না হলে নয়। কথাটা ঠিকই। কিন্তু ডায়াবিটিস না থাকলেও কিছু কিছু অভ্যাস নিঃশব্দেই বাড়িয়ে দিতে পারে এই রোগের ঝুঁকি। বয়সকালে যে অসুখ আগে দেখা যেত, তাই-ই এখন কম বয়সের রোগ। ৩০-৩৫ পার হতে না হতেই অনেকের ডায়াবিটিস ধরা পড়ছে। আর এ জন্য চিকিৎসকেরা দায়ী করছেন কম কায়িক শ্রম এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনকেই। কোন বিষয়গুলি নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি, সময় থাকতে বদলাবেন কোন অভ্যাস?

Advertisement

দীর্ঘ ক্ষণ বসে কাজ: পেশার ধরনে বদল এসেছে। কর্পোরেট জগত-সহ বহু পেশাতেই দীর্ঘ ক্ষণ বসে কাজ করতে হয়। এই কম কায়িক শ্রমের জীবনধারার ব্যাপারেই সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। হাঁটাচলা কম হওয়া, একটানা বসে থাকার ফলে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়, পেশির সক্রিয়তা কমে। তা থেকেই বাড়তে পারে স্থূলত্বের মতো অসুখ, হার্টের সমস্যা, ডায়াবিটিসও। একই ভাবে বসে কাজ, শরীরচর্চা না করার অভ্যাস ধীরে ধীরে বিপাকহারে প্রভাব ফেলে। একসময়ে ইনসুলিনের কার্যকারিতাও কমে যায়। ঝুঁকি বাড়ে টাইপ ২ ডায়াবিটিসের।

প্রাতরাশ বাদ দেওয়া: সকালের তাড়াহুড়োয় অনেকেই জলখাবার বাদ দেন। সারা দিনের কাজের শক্তি কিন্তু সেই খাবার থেকেই মেলে। সকালে স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে দিন শুরু হলে, দিনভর রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখা সহজ হয়। প্রাতরাশ বাদ দেওয়া মানেই খানিক পরে খিদে পেয়ে যাওয়া। খিদের মুখে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন বৃদ্ধি করতে পারে, হরমোনের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisement

অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার: ডায়াবিটিস না থাকলে চিনি বা মিষ্টি খাওয়া যায়, তবে মাত্রাতিরিক্ত হলেই ক্ষতিকর হয়ে যেতে পারে। পেস্ট্রি, নানা ধরনের মকটেল বা মিষ্টি, উচ্চ ক্যালোরির খাবার ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তা ছাড়া, পুষ্টিগুণ কম কিন্তু ক্যালোরি বেশি, এই ধরনের খাবার দিনের পর দিন খেলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইনসুলিন হরমোন কোষ সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারে না।

ঘুম কম হওয়া: দিনের পর দিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ঘুম কম হলে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, খাওয়া ও হজমেও প্রভাব পড়তে পারে। আর এই সব মিলিয়েই ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়। শরীরে হরমোনটি উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় শরীর কাজে লাগাতে পারে না, ফলে ডায়াবিটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

Advertisement

মানসিক চাপ: মানসিক চাপও ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। দিনের পর দিন মানসিক চাপে থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, বিপাকহারেও তার প্রভাব পড়ে। তার ফলে ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

ডায়াবিটিসের ঝুঁকি এড়াতে কী কী করবেন?

· পুষ্টিকর এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

· শরীরচর্চা আবশ্যিক। সকালে হাঁটাহাটি, গায়ে রোদ লাগানো জরুরি।

· ধূমপান, মদ্যপান এড়ানো দরকার।

· প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি মিশ্রিত প্যাকেটজাত পানীয়, ঠান্ডা পানীয় কম খাওয়া ভাল।

· একটানা বসে কাজ না করে ঘণ্টাখানেক অন্তর ৫ মিনিট হাঁটাচলা করা জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement