পেটে গ্যাস কেন হয়? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলোর অনেক গুণ। এই সব্জিগুলি ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজে ভরপুর। শরীর ভাল রাখার সমস্ত উপাদানই এতে মজুত। তবে অনেকেরই অভিযোগ, শীতের দিনে মুলো, ফুলকপির মতো সব্জি খেলে গ্যাস হয়। কেউ আবার কারণ বুঝতে পারেন না, কিন্তু ঘরোয়া খাবার খেয়েও পেটের অস্বস্তিতে ভোগেন।
বাড়ির খাবার, শাকসব্জি কিন্তু শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। তা হলে পেটে গ্যাস হয় কেন?
কোনও কোনও সব্জিতে থাকে এফওডিএমএপিএস। এটি এক ধরনের শর্টচেন কার্বোহাইড্রেট, যা সহজে পরিপাক হয় না। উল্টে এই কার্বোহাইড্রেট অন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়ার সক্রিয়তায় মজে যায়। আর তা থেকেই গ্যাস উৎপন্ন হয়। ফলে পেট ফাঁপে, অস্বস্তি শুরু হয়। কোনও কোনও সব্জিতে এই প্রকারের কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বেশি থাকে। সেগুলি খেলে গ্যাস হতে পারে।
অনেক সময় বাদাম, দুধ দিয়েও নানা সব্জি রান্না করা হয়।কারও যদি দুধের ল্যাক্টোজ় হজমে সমস্যা থাকে তা হলে সরাসরি দুধ বা দুধ দিয়ে তৈরি খাবার খেলেও পেটের সমস্যা হতে পারে।
পেটফাঁপার সমস্যা কমানোর উপায় কী?
· দৈনন্দিন কোন খাবার খাওয়া হচ্ছে, কোনটা খেলে বদহজম হচ্ছে, সেটা বোঝার চেষ্টা করা দরকার। দিনের কোন সময়ে পেট ভার লাগছে, তা বুঝে খাবারের উপকরণে বদল আনা দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
· কার্বন এবং চিনি জাতীয় শরবত এড়িয়ে চলাই ভাল।
· উচ্চ মাত্রায় ফ্রুক্টোজযুক্ত ফল (যেমন-খেজুর, কিশমিশ, ড্রায়েড অ্যাপ্রিকট, আম) বেশি না খাওয়াই ভাল।
· কাঁচা সব্জির চেয়ে ভাপিয়ে খেলে সেটি নরম হয়ে যায়, ফাইবার হজম করা সহজ হয়।
· ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি- এই ধরনের সব্জি খেলেও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।
গ্যাসের সমস্যা কমাতে কী খাবেন
যে সব সব্জিতে এফওডিএমএপিএস-এর মতো কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা কম অথচ পুষ্টিগুণ বেশি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর, তেমন সব্জি পাতে রাখতে হবে। গাজর, সেলেরি, শসা, সবুজ মুগ, কচি পালং, রাঙাআলু, ঝুকিনির মতো সব্জিগুলি খাওয়া দরকার।
পুষ্টিবিদেরা মনে করেন, পছন্দের সব্জি বাদ দেওয়া কাজের কথা নয়।আবার, পরিমিত আহার, তার পরে হাঁটাহাটি, পর্যাপ্ত জল পান— এই বিষয়গুলিও হজমের সঙ্গে যুক্ত। শরীরচর্চা, খাওয়ার পর হাঁটার অভ্যাসে বদহজম কমে এবং গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে বদহজমের সমস্যা নিয়ে দিনের পর দিন ভুগলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।