West Asia Conflict Future

পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির ভবিষ্যৎ কী? সংঘাত কি থামবে? ভারতের উপর কেমন প্রভাব পড়বে? কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র

গ্রহ-নক্ষত্র যেমন জাতক-জাতিকার উপর প্রভাব ফেলে, তেমনই রাষ্ট্র, রাজনৈতিক এবং প্রাকৃতিক বিষয়ের উপরও প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই কি পশ্চিম এশিয়া এত অশান্ত? জ্যোতিষীর থেকে জেনে নিন।

Advertisement

সুপ্রিয় মিত্র

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫৯
Share:

ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।

২০২৬ সালের শুরু থেকেই পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হানাহানির খবর উঠে আসতে শুরু করেছে। প্রায় সকলের মনেই এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে, বছরের প্রথম থেকেই কেন এমনটা হচ্ছে? আগত দিনগুলিতেই বা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

Advertisement

সংখ্যাতত্ত্ব মতে, ২০২৬ সাল রবির বছর। চলতি বছরের মন্ত্রী গ্রহ মঙ্গল। বিক্রম সমবৎসার অনুযায়ী এটি ২০৮৩ সাল। বিক্রম সমবৎসারের নিরিখে বিচার করে বলা হচ্ছে, চলতি বছরটি রুদ্র সমবৎসার বা রাগ এবং উগ্রতার বছর। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাই রাগ, উগ্রতা এবং ধংসের ছাপ দেখতে পাওয়া যাবে।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, গ্রহ-নক্ষত্র যেমন জাতক-জাতিকার উপর প্রভাব ফেলে, তেমনই রাষ্ট্র, রাজনৈতিক এবং প্রাকৃতিক বিষয়ের উপরও প্রভাব ফেলে। বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রহদের অবস্থান শুভ বলা যায় না। এই মুহূর্তে শনির অবস্থান মীন রাশিতে, অর্থাৎ কালপুরুষের দ্বাদশ স্থানে। রাহু এবং সিংহ রয়েছে যথাক্রমে কুম্ভে এবং কেতুতে। অর্থাৎ, রাহু একাদশ এবং কেতু পঞ্চমে অবস্থান করছে। রাহুর সঙ্গে অবস্থান করছে মঙ্গল। বৃহস্পতি অবস্থান করছে মিথুন রাশিতে। রাহু এবং মঙ্গল একত্রে অবস্থান করবে আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত। পরবর্তী সময়, অর্থাৎ ৩ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত মঙ্গল অবস্থান করবে মীন রাশিতে শনির সঙ্গে।

Advertisement

গ্রহের অবস্থান বর্ণনার কারণ, যা ঘটেছে বা ঘটছে বা ঘটবে, সবই গ্রহের অবস্থানের উপর নির্ভর করে বা গ্রহের প্রভাবেই হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এর অন্যথা হবে না।

আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ রাহু-মঙ্গলের একত্রে অবস্থানের সময়কাল ভাল বলা চলে না। বিশেষ করে, সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া দেশগুলির জন্য এই সময়কাল ভাল নয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কেন্দ্রে থাকা রাষ্ট্রগুলি যে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে তেমন সম্ভাবনাও প্রায় নেই এই সময়কালে। এই সময় পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে ধ্বংসলীলা এখনও চলবে বলা চলে।

পাশাপাশি জ্যোতিষশাস্ত্র এ-ও বলছে, আগামী ৩ এপ্রিল থেকে ১০ মে যুদ্ধ পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হলেও, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতে জড়িয়ে পড়া দেশগুলিতে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অচলাবস্থা প্রবল হবে। সেই পরিস্থিতি থেকে সহজে নিস্তার পাওয়া যাবে না। ২০২৭ সালের জুন মাস (শনির রাশি পরিবর্তন) পর্যন্ত এই অবস্থা স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। বৃদ্ধি পেতে পারে ধর্মীয় উন্মাদনাও। একাধিক ধর্মগুরু এবং রাজনৈতিক নেতার প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও বলছে জ্যোতিষশাস্ত্রের হিসাব।

পৃথিবীর যে প্রান্তেই অশান্তি হোক না কেন, অন্যান্য রাষ্ট্রের উপরও সেই আঁচ এসে পড়ে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের প্রভাব যে ভারতের উপর একদম পড়ছে না, তা বলা চলে না। পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে যুদ্ধ বা যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পৃথিবীর অন্য অনেক দেশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত হয়। যদিও পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধের জন্য ভারতের প্রত্যক্ষ ভাবে প্রভাবিত হওয়ার বা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। তবে অভ্যন্তরীণ, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগে ‘দাদারাষ্ট্র’ (পড়ুন আমেরিকা)-এর জেরবার হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement