ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
যে কোনও অবোলা জীবকে খাওয়ানোর নানা উপকারিতা রয়েছে। বহু মানুষই নিয়মিত কুকুর, গরু, বিড়াল প্রভৃতি প্রাণীকে খাবার দেন। অনেকে সকাল শুরুই করেন পাখিদের খাবার দিয়ে। এর ফলে কেবল অবোলা জীবগুলির পেট ভরে না, নিজেদেরও উপকার হয়। কাককে ঘিরে বহু মানুষের মনে নানা ধারণা ঘুরে বেড়ায়। অনেকেই মনে করেন যে কাক অশুভ খবর বয়ে আনে। তবে এ ধারণা পুরোপুরি শাস্ত্রসম্মত নয়। কাককে খাবার দেওয়ার বিভিন্ন গুণ রয়েছে। এর ফলে নানা দিক থেকে সুফল প্রাপ্তি হয়। সেগুলি সম্বন্ধে জেনে নিন।
কাককে নিয়মিত খাবার খাওয়ানোর উপকারিতাগুলি কী?
শনির দোষ কাটাতে: কাককে নিয়মিত, বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহের শনিবার করে কাককে খাবার দিলে শনির দোষ থেকে মুক্তি মেলে। শাস্ত্রমতে, কাক শনিদেবের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই কাককে খাবার দিলে শনিদেবের কৃপা লাভ করা যায়। তাঁর বিষনজর থেকে মুক্তি মেলে।
পিতৃদোষ: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপুরুষদের মৃত্যুর পর তাঁরা কাক হয়ে আমাদের কাছে খাবার নিতে আসেন। সেই কারণে অশৌচ চলাকালীন কাককে খাবার দেওয়ার নিদান রয়েছে শাস্ত্রে। প্রতি দিন সকালে স্নানের পর কাককে খাবার দিলে পিতৃদোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাঁরা আমাদের উপর প্রসন্ন হন।
ষষ্ঠেন্দ্রিয় সজাগ হয়: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কাক অত্যন্ত চালাক। এই পাখির ষষ্ঠেন্দ্রিয় অত্যন্ত সজাগ হয় বলে মনে করা হয়। কাকের সঙ্গে আধ্যাত্মিক বিষয়েরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই পাখিকে প্রতি দিন খাবার দিলে আমাদের আধ্যাত্মিক জ্ঞানবৃদ্ধি ঘটে বলে মনে করা হয়। ষষ্ঠেন্দ্রিয় উন্নত হয়। কাকের মতোই আমরাও যে কোনও বিষয়ের আন্দাজ আগে থেকে পেয়ে যেতে পারি।
কর্মফল থেকে মুক্তি: শনিদেবের প্রিয় হওয়ায় কাকের সঙ্গে আমাদের কর্মফলের সম্পর্ক থাকা স্বাভাবিক। খারাপ কর্ম করার ফলে আমাদের যে নানা ফল ভোগ করতে হয়, সেটি লঘু করার জন্য ভাল কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে কাককে নিয়মিত খাবার দিলে কর্মফল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
নাম-যশ বৃদ্ধি: কাককে খাবার দেওয়ার অর্থ শনিদেবের প্রিয় হয়ে ওঠা। আর শনিদেব তুষ্ট হলে নামযশ, কর্মক্ষেত্রে সফলতা, সমাজে নাম-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি সবই হয়। তাই কাককে খাবার দেওয়ার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যে সুপরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে মন দিয়ে, ফলের আশা না করে নিয়মিত খাবার দিতে হবে। অন্যথায় ফলপ্রাপ্তি হবে না।