ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার সরস্বতীপুজো। আর সরস্বতীপুজো, লক্ষ্মীপুজো মানেই পুরোহিতের টানাটানি। সরস্বতীপুজোয় মনের মতো পুরোহিত পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই এই পুজো সকালের দিকে হয়। সেই জন্য ব্রাহ্মণের আকাল পড়তে দেখা যায়। বাড়ি ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, গানের স্কুল প্রভৃতি জায়গায় সরস্বতীপুজো হয়ে থাকে। তাই পুরোহিত পেতে সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। তবে পুরোহিত না পেলে মায়ের পুজো হবে না, এমনটা হতে পারে না। নিষ্ঠা থাকলে নিজেই বিদ্যার দেবীর পুজো করে নিতে পারেন। জানতে হবে পদ্ধতি। বাড়িতে সহজ উপায়ে নিজেই কী ভাবে বাণীবন্দনা করবেন জেনে নিন।
পুরোহিত ছাড়া সরস্বতীপুজোর পদ্ধতি:
১. সরস্বতীপুজোর দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা আবশ্যিক। এর পরই বাসি ঘর পরিষ্কার করে নিয়ে স্নান করে নিতে হবে। তার পর হলুদ বা সাদা পরিষ্কার পোশাক পরে নিন।
২. যে স্থানে দেবীকে স্থাপন করবেন, সেই স্থান ভাল করে পরিষ্কার করুন। তার পর মন চাইলে সেখানে আলপনা আঁকতে পারেন। না আঁকলেও ক্ষতি নেই।
৩. মেঝের উপর দেবীকে বসাতে নেই। তাই একটা কাঠের জলচৌকি পেতে তার উপর কাপড় পেতে দিন। সেটির উপর মা সরস্বতীর মূর্তিটি স্থাপন করুন। মন চাইলে দেবীর মূর্তিতে সাদা বা হলুদ রঙের কাপড় পরাতে পারেন। তবে না পরালেও চলবে।
৪. মায়ের পায়ের কাছে বই-খাতা, পেন-পেনসিল, বাদ্যযন্ত্র প্রভৃতি রেখে দিন। কেউ চাইলে আঁকার সরঞ্জাম বা অন্য কোনও হাতের কাজের জিনিসও রাখতে পারেন। সরস্বতী কেবল বিদ্যারই দেবী নন, যে কোনও শিল্পকলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। সেগুলির সঙ্গে দোয়াত-কলম রাখুন। দোয়াতগুলির মধ্যে কাঁচা দুধ দিয়ে তাতে কলম ভরে দিন এবং উপরে একটা করে নারকেলি কুল দিন।
৫. বাগ্দেবীর পছন্দের রং হলুদ। তাই তাঁর পুজোয় হলুদ রঙের ফুল ব্যবহার করতেই হবে। এরই সঙ্গে পলাশ ফুল ও যবের শীষ দিতে হবে। এই দুই জিনিস ছাড়া সরস্বতীপুজো অসম্পূর্ণ।
৬. নৈবেদ্য হিসাবে পাঁচ রকম ফল ও ফুল দিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে হলুদ মিষ্টি দিতে পারলে খুব ভাল হয়। মন চাইলে খিচুড়ি ভোগ রান্না করে দিতে পারেন।
৭. সব কিছু গোছানো হয়ে গেলে ধূপ-ধুনো জ্বেলে সরস্বতীর মন্ত্র পাঠ করুন। তার পর হাতে ফুল নিয়ে অঞ্জলির মন্ত্র পাঠ করে পুষ্পাঞ্জলি দানের মাধ্যমে পুজো সম্পন্ন করুন। সব শেষে করজোড়ে সরস্বতী দেবীকে প্রণাম করে মনোস্কামনা জানান।