Magh Mela Row

যোগী প্রশাসনকে ক্ষমা চাইতে বললেন জ্যোতির্পীঠের শঙ্করাচার্য! মাঘমেলা বিতর্কে পারদ চড়ছে, মিলবে রফাসূত্র?

বুধবার বারাণসীতে পৌঁছোনোর পর শঙ্করাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেন দুই সরকারি আধিকারিক। মাঘমেলায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধও করেন। তবে এখনও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৩
Share:

(বাঁ দিকে) উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

মাঘমেলা বিতর্কের অবসান ঘটবে? তেমনই ইঙ্গিত দিলেন জ্যোতির্পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর সহযোগী। তাঁর দাবি, শঙ্করাচার্যের কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ প্রশাসন! যদিও সরকারি ভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।

Advertisement

বিতর্কের সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুতে। শঙ্করাচার্য এবং তাঁর অনুগামীদের অভিযোগ, মাঘমেলার সময়ে প্রয়াগরাজের সঙ্গমে তাঁরা ডুব দিতে গেলে বাধা পান। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রথে চেপে স্নান করতে যাচ্ছিলেন শঙ্করাচার্য। ভিড় এলাকায় মানুষজন পদপিষ্ট হতে পারেন মনে করে তাঁর রথযাত্রা আটকানো হয়। বাকি পুণ্যার্থীদের মতো তাঁকেও হেঁটে যেতে বলা হয়। শঙ্করাচার্য অভিযোগ করেন, তাঁকে ‘অপমান’ করা হয়েছে। টানাপড়েনের মধ্যে বুধবার প্রয়াগরাজের সঙ্গমে স্নান না-করে বারাণসীতে চলে যান শঙ্করাচার্য।

স্নান না-করার সিদ্ধান্তে ‘হতবাক’ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শঙ্করাচার্যের সহযোগী যোগীরাজ সরকার বলেন, ‘‘প্রয়াগরাজের কর্মকর্তারা আশা করেননি শঙ্করাচার্য আচমকা মাঘমেলা ছেড়ে বারাণসী চলে যাবেন। তাঁরা ভেবেছিলেন ১ ফেব্রুয়ারি, মাঘপূর্ণিমায় স্নানের পর তিনি যেতে পারেন। সেই সময়ে মধ্যে তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হবেন তাঁরা। কিন্তু বাস্তবে তা না-হওয়ায় হতবাক হয়েছেন প্রয়াগরাজ কর্তৃপক্ষ।’’

Advertisement

বুধবার বারাণসীতে পৌঁছোনোর পর শঙ্করাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেন দুই সরকারি আধিকারিক। মাঘমেলায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধও করেন। যোগীরাজের দাবি, ওই সাক্ষাতের সময় প্রশাসনকে দু’টি শর্ত দিয়েছিলেন শঙ্করাচার্য। এক, দায়ী কর্মকর্তাদের লিখিত ক্ষমা চাইতে হবে। দুই, চার জন শঙ্করাচার্যের জন্যই প্রোটোকল মানতে হবে। যোগীরাজ আরও দাবি করেন, শঙ্করাচার্যকে পালকিতে চাপিয়ে প্রয়াগরাজের সঙ্গমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে শঙ্করাচার্য সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। প্রয়াগরাজের সঙ্গমে স্নান করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শঙ্করাচার্যকে নোটিস ধরায় প্রয়াগরাজ মেলা কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার উল্লেখ করে তাতে বলা হয়, যত দিন ওই মামলার নিষ্পত্তি না হচ্ছে, তত দিন কোনও ধর্মীয় নেতাকে জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না বলে জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে অনেকের মতে, প্রয়াগরাজ কর্তৃপক্ষের ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে দিয়ে উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement