(বাঁদিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ (ডানদিকে)। —ফাইল চিত্র।
গত ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদীদের দেশ থেকে নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই কাজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের প্রচেষ্টা ও সাফল্যের কথা তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে তুলেও ধরেছেন তিনি। শাহের মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, এ বার মোদী সরকার বিশেষ ভাবে নিশানা করেছে বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী মডিউলগুলিকে।
২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে, ভারত নিয়মিত ভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় আঘাত হেনে চলেছে। সরকারের একটি সূত্রে দাবি, ২০২৯ সালে শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিশেষ ভাবে ‘নজর’ দিয়েছিলেন দেশের অন্দরের সন্ত্রাসবাদী মডিউল এবং স্লিপার সেলগুলির দিকে। লক্ষ্যপূরণের জন্য গড়ে তোলা হয় শক্তপোক্ত কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স (সিআই) নেটওয়ার্ক। এ বার পাকিস্তানের আইএসআই-এর পাশাপাশি চিনা গুপ্তচর সংস্থা এমএসএস এবং বাংলাদেশি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির তৎপরতা রোখার জন্য বিশেষ তৎপরতা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বিদেশি শত্রুর এজেন্ট এবং হ্যান্ডলারদের গ্রেফতার এবং আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে চার্জশিট দাখিলে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে সিআই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উপর।
প্রসঙ্গত, মাওবাদী সমস্যা এ বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নেন শাহ। সেই মতো দমনমূলক অভিযানের পাশাপাশি মাওবাদী এলাকাগুলিতে উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ধারাবাহিক অভিযানের ফলে গত বছর ২৩০০ মাওবাদী অস্ত্র ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। এ বছর এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন মাওবাদী অস্ত্র ত্যাগ করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ ও পুনর্বাসন নীতির কারণে গত এক দশকে ১০ হাজারের বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করায় দেশ জুড়ে মাওবাদী কর্মকাণ্ড কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের। গত মাসের গোড়ায় সংসদে শাহ দাবি করেছেন, ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদ মুছে ফেলার যে লক্ষ্যমাত্রা, তাতে অনেকাংশেই সাফল্য পেয়েছে কেন্দ্র। ছত্তীসগঢ়ের মাত্র তিনটি জেলায় মাওবাদীদের সামান্য সক্রিয়তা রয়ে গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্টে।