হরদীপ সিংহ পুরী। — ফাইল চিত্র।
পারস্পরিক ই-মেল চালাচালি হয়েছে ৬২ বার। নয় নয় করে ২০১৪-১৭ সালের মধ্যে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে ১৪টি বৈঠক করেছিলেন পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কারণে আজ ফের একবার পুরীর ইস্তফা চেয়ে সরব হলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের নেতা পবন খেরার মতে, পুরী অনেক কিছু জানেন। তাই তাঁকে বাঁচাতে মরিয়া সরকার। তাই তাঁকে ইস্তফা দিতে বলা হচ্ছে না। যদিও আজ ফের নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন তেলমন্ত্রী।
অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে যখন এপস্টিনের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ উঠেছিল— সে সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় খুবই সামান্য। তিন-চারবার এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। কিন্তু আজ খেরা তথ্যপ্রমাণ তুলে অভিযোগ করেন, ‘‘যে বছর নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসেন, সেই ২০১৪ সাল থেকে পুরীর সঙ্গে মেল চালাচালি শুরু হয় এপস্টিনের। সব মিলিয়ে পরবর্তী তিন বছরে মোট ৬২টি মেল চালাচালি হয়েছিল। যার মধ্যে ৩২টি লিখেছিলেন পুরী এবং এপস্টিন লিখেছিলেন ৩০টি। দু’জনের ২০১৪ সালে ৯বার সাক্ষাৎ হয়। সব মিলিয়ে ১৪ বার।’’
খেরার প্রশ্ন, ‘‘যেখানে ২০১৪ সালে পুরী একজন সাধারণ নাগরিক ছিলেন তা সত্ত্বেও কোন অধিকারে তাঁর সঙ্গে ওই বৈঠক করেছিলেন এপস্টিন?’’ পাশাপাশি, ওই বৈঠকগুলিতে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ নীতির বিষয়ে এপস্টিনকে আগেভাগে খবর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরীর বিরুদ্ধে। তাই এপস্টিনের সঙ্গে সখ্যের রাখার পাশাপাশি, দেশের তথ্য বিদেশি ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে অবিলম্বে পুরীকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য দাবি তুলেছেন খেরা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এপস্টিন মামলা সামনে আসার পর থেকেই পুরী ধারাবাহিক ভাবে মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। পুরীর পুরনো বক্তব্য মেলালইে তাঁর মিথ্যাচার ধরা পড়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হল, হরদীপ পুরী যে মিথ্যা কথাগুলি বলছেন তা কাকে বাঁচানোর জন্য? তিনি কাকে বাঁচাতে চাইছেন?’’
এপস্টিন-বিতর্কে নাম জড়িয়েছে বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রনেতার। অধিকাংশ দেশেই যে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম এপস্টিন-বিতর্কে জড়িয়েছে, তাঁরা ইস্তফা দিয়েছেন বলে দাবি কংগ্রেসের। কিন্তু ভারতে সে রকম কিছু হয়নি। উল্টে বিতর্কে নাম আসার পরে পুরীর জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
এপস্টিনের মতো যৌন অপরাধীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা পুরীকে কেন ইস্তফা দিতে বলা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পবন। তাঁর যুক্তি, ‘‘পুরী অনেক কিছু এবং এমন কিছু জানেন, তাই তাঁকে ইস্তফা দিতে বলা হচ্ছে না।’’ খেরার দাবি, পুরী মুখ খুললে সরকারের অনেক সত্য সামনে চলে আসার ভয় রয়েছে। তাই পুরীকে ইস্তফা দিতে বলছে না দল বা সরকার।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে