—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বিএলও পোর্টালে নথি আপলোড করা বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই কারণে নদিয়ার প্রায় চার হাজার ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আদৌ তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা।
সমস্যার কথা জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দেওয়া হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা না আশায় বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের অন্দরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, গোটা রাজ্য জুড়ে এঁই সংখ্যাটা প্রায় এক লক্ষের মতো। এমনকী এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইআরও এবং এইআরও-দের কমিশনের শাস্তির মুখে পড়তে হবে কি না তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
নদিয়ার বিভিন্ন ইআরও বা এইআরও-রা জানাচ্ছেন, প্রতি দিনের শুনানির নথি সেই দিনই পোর্টালে আপলোড করার কথা। কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে অনেক বেশি সংখ্যক শুনানি করতে হওয়ায় কোনও কোনও দিন দু’চারটি করে নথি আপলোড করা বাকি থেকে গিয়েছিল। নির্বাচন কমিশন ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে অনেকেই ভেবেছিলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানির কাজ শেষ করে এই সমস্ত বাকি থেকে যাওয়া নথিগুলি ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পোর্টালে আপলোড করে দেবেন। এ ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে যে প্রথম শুনানিতে অনেকে কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী নথি দেখাতে না পারলেও আসলে তাঁদের কাছে সেই নথি আছে। হয়তো সেগুলি তাঁরা সঙ্গে আনেননি বা অন্য কোথাও রাখা আছে বলে নিয়ে আসতে পারেননি। বিশেষ করে বিবাহিত মহিলাদের অনেকেরই কিছু নথি বাপের বাড়ি রয়ে গিয়েছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে ইআরও-রা তাঁদের নথি নিয়ে এসে জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। আবার অনেকে দ্বিতীয় বার শুনানির সুযোগ পেয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। প্রশাসনের অনেক আধিকারিকই ভেবেছিলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি প্রক্রিয়া পুরো শেষ করার পর এই সমস্ত ন পোর্টালে আপলোড করবেন। যেহেতু ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করার কথা, নথি আপলোড করার জন্য হাতে আরও সাত দিন সময় পাওয়া যাবে বলে অনেকেই মনে করেছিলেন।
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে শুনানির নথি অপলোডও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি মালুম হয়। নদিয়ার এক ইআরও বলেন, “কমিশন আগে বলেনি যে ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আর নথি আপলোড করা যাবে না। তা বলে দিলেই এই সমস্যা হত না। এখন কমিশন এক দিনের জন্য পোর্টাল আবার খুলে দিলেও আর সমস্যা থাকে না।” অন্যান্য জেলার মতো নদিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনকে এই সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। আমরা তাদের নির্দেশের অপেক্ষেয় আছি।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে