দিল্লির এআই সম্মেলনে জামা খুলে কংগ্রেসের বিক্ষোভ। — ফাইল চিত্র।
দিল্লির আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে খালি গায়ে কংগ্রেসিদের বিক্ষোভের ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। একই সঙ্গে এই মামলায় দু’টি নতুন ধারা যুক্তও করা হয়। সেই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ হতে পারে পাঁচ বছর পর্যন্ত। অন্য দিকে, শুক্রবারের ঘটনা নিয়ে প্রথম মুখ খুলল কংগ্রেস যুব শাখা।
গত শুক্রবার দিল্লির ভারত মণ্ডপে এআই সম্মেলন চলাকালীন আচমকা সেখানে ঢুকে পড়েন কয়েক জন। জানা যায়, তাঁরা সকলেই যুব কংগ্রেসের সদস্য। সম্মেলন কক্ষে ঢোকার পরেই তাঁরা পরনের টি-শার্ট খুলে ফেলেন। স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভ দেখান সকলে। প্রতিবাদের কারণ ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য-সমঝোতার বিরোধিতা। কিন্তু এই প্রতিবাদের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। সোমবার এ বিষয়ে যুব কংগ্রেসের দাবি, এআই সম্মেলনে প্রতিবাদ ছিল শান্তিপূর্ণ। নেতাদের ভুল ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের দাবি, তারা প্রধানমন্ত্রীর (নরেন্দ্র মোদী) দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রতিবাদ করেছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশে ইচ্ছাকৃত ভাবে তাদের নেতাদের ফাঁসানো হচ্ছে। যুব কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ ওঝার অভিযোগ, ‘‘গত কয়েক দিনে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছি। কিন্তু আমাদের কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ হয়েছে।’’
দিল্লির ওই বিক্ষোভের ঘটনায় প্রথমেই চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কৃষ্ণ হরি, কুন্দন যাদব, অজয় কুমার এবং নরসিংহ যাদব— চার জনই যুব কংগ্রেসের সদস্য। পরে আরও এক জন গ্রেফতার হন। সোমবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন অজয়কুমার বিমল এবং রাজা গুজ্জর। পুলিশের দাবি, ধৃতেরা সকলেই শুক্রবারের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত! পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৯৬ এবং ১৯৭ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তি জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী কোনও বার্তা প্রচারের চেষ্টা করেন, তবে এই ধারা যুক্ত করা হয়।
এআই সম্মেলনে প্রতিবাদের ঘটনায় কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে দিল্লির আদালত। পর্যবেক্ষণ, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় ভিন্নমত পোষণের অধিকার সুরক্ষিত। তবে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের অবস্থানকে খাটো করে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করে— এমন আচরণও করা যায় না। পটিয়ালা হাউস আদালত এ-ও জানায়, কৃত্রিম মেধা সম্মেলন চলাকালীন ওই আচরণ ভিন্নমত পোষণের বৈধ পরিধিকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ওই আচরণ আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করছে আদালত।
এআই সম্মেলনে এ ধরনের প্রতিবাদ করায় সমালোচনার মুখে পড়ে কংগ্রেস। বিজেপির বিভিন্ন নেতামন্ত্রীরা তো বটেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এ নিয়ে মুখ খোলেন। তাঁর দাবি, বিশ্বের কাছে ভারতের মাথা হেঁট করেছে শতাব্দীপ্রাচীন রাজনৈতিক দল। আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ‘নোংরা এবং নগ্ন’ রাজনীতির জন্য ব্যবহার করেছে কংগ্রেস, অভিযোগ মোদীর। তাঁর কথায়, ‘‘কংগ্রেস নিজের দেশকে বদনাম করতে ব্যস্ত। দেশের মধ্যে কিছু রাজনৈতিক দল আছে, যারা ভারতের সাফল্য হজম করতে পারছে না।’’ শুধু বিজেপি নয়, সরব অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও। এই বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খোলে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তথা বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক তৃণমূল। এই ধরনের কর্মসূচিকে ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন’ বলে বর্ণনা করেন এ রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।