Monsoon in India

বর্ষার বৃষ্টিতে ঘাটতি বাড়বে! এল নিনোর প্রভাবে উষ্ণ হবে জুন, স্বাভাবিকের চেয়ে কোথায় কত কম বর্ষণ? জানাল মৌসম ভবন

মৌসম ভবন জানিয়েছে, দেশে বর্ষায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮৭ সেন্টিমিটার। কিন্তু এ বছর তা হবে না। পূর্বাভাস বলছে, এলপিএ-র ৯০ শতাংশ বৃষ্টি হতে পারে চলতি মরসুমে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৪:১৭
Share:

বর্ষায় ঘাটতির পূর্বাভাস মৌসম ভবনের, গরম বাড়তে পারে জুন মাসে। —ফাইল চিত্র।

বর্ষার বৃষ্টিতে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানাল মৌসম ভবন। দেশের বিস্তীর্ণ অংশে এ বছর বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত এল নিনোর প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হতে পারে জুন মাস।

Advertisement

৫০ বছর ধরে কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে (বা দেশে) একটি নির্দিষ্ট সময়ে (যেমন বর্ষাকালে) যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তার গাণিতিক গড়কে বলে এলপিএ (লং পিরিয়ড অ্যাভারেজ)। ভারতে ১৯৭১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান বলছে, এলপিএ ৮৭ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ, দেশে বর্ষায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮৭ সেন্টিমিটার। কিন্তু এ বছর তা হবে না। পূর্বাভাস বলছে, এলপিএ-র ৯০ শতাংশ বৃষ্টি হতে পারে চলতি মরসুমে। শুক্রবার মৌসম ভবন থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলে মৌসম ভবন জানিয়েছিল, এলপিএ-র ৯২ শতাংশ বৃষ্টি এ বছর হতে পারে। সেই পূর্বাভাস আরও কমল।

মৌসম ভবন জানিয়েছে, বর্ষায় ঘাটতি (এলপিএ-র ৯০ শতাংশের নীচে) হওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ, স্বাভাবিকের কম বর্ষা (এলপিএ-র ৯০-৯৫ শতাংশ) হওয়ার সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ, স্বাভাবিক বর্ষা (এলপিএ-র ৯৬-১০৪ শতাংশ) হওয়ার সম্ভাবনা ১৪ শতাংশ, স্বাভাবিকের উপরে বর্ষা (এলপিএ-র ১০৫-১১০ শতাংশ) হওয়ার সম্ভাবনা ২ শতাংশ। আর অতিরিক্ত বর্ষা (এলপিএ-র ১১০ শতাংশের বেশি) হওয়ার সম্ভাবনা শূন্য।

Advertisement

কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব এম রবিচন্দ্রন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘এই মরসুমে মোট যে পরিমাণ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে আমরা ৯০ শতাংশ এলপিএ-র পূর্বাভাস দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল বিষয়গুলিও বিবেচনা করা হয়।’’ এল নিনো পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে মৌসম ভবন। জুন মাসের শুরুর দিকে এল নিনো দুর্বল হবে বলে আশাবাদী রবিচন্দ্রনেরা। মৌসম ভবনের এই ঘাটতিপূর্ণ বর্ষার পূর্বাভাসে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ বৃষ্টিনির্ভর কৃষিজমিযুক্ত অঞ্চলেই স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টি এ বার কম হতে পারে।

মৌসম ভবন জানিয়েছে, চলতি মরসুমে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে উত্তর-পূর্ব ভারতে। সেখানে বর্ষা ‘স্বাভাবিক’ থাকবে। বর্ষার বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হবে মধ্য এবং দক্ষিণ ভারতে। উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশেও বর্ষা দুর্বল হতে পারে। এর ফলে দেশের কোথাও কোথাও খরার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। চাপ পড়তে পারে পানীয় জলের উৎসগুলিতে। এর ফলে আগে থেকে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছে মৌসম ভবন। সেই অনুযায়ী সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

কিছু দিন আগে পর্যন্ত মনে করা হচ্ছিল, এ বারের বর্ষায় এল নিনোর তেমন প্রভাব পড়বে না। এল নিনো পরিস্থিতি থাকলেও দেশে বর্ষা ঢুকবে স্বাভাবিক সময়েই। কিন্তু দিন যত এগোচ্ছে, এ বিষয়ে আবহবিদদের চিন্তা বাড়ছে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২৬ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেনি। ২৮ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত কেরলে মোটের উপর শুকনো আবহাওয়া থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ৪ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতির ‘সামান্য’ উন্নতি হতে পারে। সাধারণ ভাবে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে ১ জুন। রবিচন্দ্রনের কথায়, ‘‘এখন বেশির ভাগ বৃষ্টি সমুদ্রের উপর হচ্ছে। মূল ভূখণ্ডে হচ্ছে না। আমরা আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বর্ষা ধীরে ধীরে আরব সাগর এবং উপদ্বীপীয় ভারতের কাছাকাছি চলে আসবে। এখনই তাই কেরলে বর্ষা প্রবেশের কোনও পূর্বাভাস করা যাচ্ছে না।’’

জুন মাসে উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, পঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার, গুজরাত, ছত্তীসগঢ় এবং অন্ধ্রপ্রদেশে তাপপ্রবাহের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা, হিমাচলপ্রদেশ, তামিলনাড়ুতেও কোথাও কোথাও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে মৌসম ভবন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement