India-Israel Relation

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা রুখতে ইজ়রায়েলি প্রযুক্তিতেই ভরসা রাখছে ভারত, মোদীর সফরে চূড়ান্ত হবে সমঝোতা

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দু’দিনের সফরে ইজ়রায়েল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বয় জোরদার করতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:১১
Share:

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বালাকোট অভিযানে জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্যাটেলাইট গাইডেড ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর-যুক্ত স্পাইস বোমা কিংবা ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বে বিমানবাহিনীর গতিবিধির উপর নজরদারি করতে ‘হেরন টিবি’ ড্রোন এবং ‘ফ্যালকন’ এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্‌স) ব্যবহার— সাম্প্রতিক কালে নানা ঘটনাতেই ভারতীয় সেনার ইজ়রায়েল-নির্ভরতা নজরে এসেছে। এ বার সামরিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে চলেছে আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে।

Advertisement

যৌথ উদ্যোগে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে নয়াদিল্লি-তেল আভিভ নতুন একটি সমঝোতা করতে চলেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি। সেই সমঝোতারই অন্যতম অংশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, লেজার অস্ত্র এবং দূরপাল্লার ‘স্ট্যান্ড-অফ ক্ষেপণাস্ত্র’এবং ড্রোনের যৌথ উৎপাদন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দু’দিনের সফরে ইজ়রায়েল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, কৌশলগত সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বয় জোরদার করতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই হবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে। তার মধ্যেই রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা বিষয়ক সমঝোতা।

সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হানা ঠেকাতে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী মূলত তিন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে— ‘আয়রন ডোম’, ‘ডেভিড্‌স স্লিং অ্যান্ড অ্যারো’ এবং আমেরিকার ‘থাড’ সিস্টেম। এর মধ্যে মার্কিন ‘থাড’-এর বিকল্প রাশিয়ায় তৈরি এস-৪০০ রয়েছে ভারতের হাতে। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নির্মীয়মাণ ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স ওয়েপন সিস্টেম’ (আইএডিডব্লিউএস) আগামী দিনে ভারতীয় সেনার ‘আয়রন ডোম’ হতে চলেছে। ‘দিগন্তের বাইরে’ (‘ওভার দ্য হরাইজ়ন’ বা ওটিএইচ) নজরদারি এবং প্রত্যাঘাতের ক্ষমতাসম্পন্ন বহুস্তরীয় এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে ‘কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল’ (কিউআরএসএএম)। ‘অ্যাডভান্সড ভেরি শর্ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ (ভিএসএইচওআরএডিএস) এবং ‘ডায়রেক্ট এনার্জি ওয়েপন’ (ডিইডব্লিউ)।

Advertisement

ইজ়রায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং আমেরিকার সংস্থা রেথিয়নের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘ডেভিড্‌স স্লিং অ্যান্ড অ্যারো’ এখন ভারতের ‘নজরে’ বলে মনে করছেন অনেকেই। শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করে আকাশেই ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি রয়েছে এতে। ‘ডেভিড্‌স স্লিং’ স্বল্পপাল্লার এবং ‘অ্যারো’ দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে ব্যবহৃত হয়। ‘ডেভিড্‌স স্লিং অ্যান্ড অ্যারো’-র উন্নততর সংস্করণ ‘অ্যারো-২’ এবং ‘অ্যারো-৩’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাল্লা প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ‘ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড’ ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার’ (পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের স্তর)-এই ধ্বংস করে দিতে পারে এই ব্যবস্থা। অপারেশন সিঁদুর-পর্বে ইজরায়েলি বোমাবাহী ‘কিলার ড্রোন’ হারপ ব্যবহারও করেছে ভারতীয় সেনা। স্পাইস-২০০০ বোমার পাশাপাশি ইজরায়েলের তৈরি ‘কুইক রিঅ্যাকশন’ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্পাইডার’ এবং বিমানে ব্যবহৃত ‘পাইথন’ ও ‘ডার্বি’-র সফল ব্যবহার হয়েছে সিঁদুর অভিযানে। ইজ়রায়েলি বিমানবাহিনীর অন্যতম অস্ত্র প্রিসিশন গাইডেড বোমা (স্মার্ট বম্ব) ‘মেইজ’ও রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার ভাঁড়ারে। এ বার কি ‘অ্যারো’-র পালা?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement