হেলমা-পি লেজ়ার অস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত।
ভারতীয় স্থলসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য এ বার নতুন ড্রোন বিধ্বংসী লেজ়ার অস্ত্র কিনতে চলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ‘হেলমা-পি’ নামে ওই বহুমুখী ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনার জন্য ফরাসি সংস্থা সিআইএলএএস-এর সঙ্গে ইতিমধ্যেই একটি চুক্তি সই হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-পরবর্তী পর্যায়ে শত্রুপক্ষের ড্রোনের আকাশসীমা লঙ্ঘন রুখতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লেজ়ার-নির্ভর ‘অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম’। ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (‘ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন’ বা ডিআরডিও) পরিচালিত সংস্থা ‘সেন্টার ফর হাই এনার্জি সিস্টেমস অ্যান্ড সায়েন্সেস’ (সিএইচইএসএস)-এর তৈরি ‘ইন্টিগ্রেটেড ড্রোন ডিটেকশন অ্যান্ড ইন্টারডিকশন সিস্টেম (মার্ক ২)’ নামে লেজ়ার-নির্ভর ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পালা অনেকটাই সফল হয়েছে ইতিমধ্যেই।
কিন্তু দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন বিধ্বংসী লেজ়ার অস্ত্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে ফ্রান্স থেকে কেনা হচ্ছে ‘হেলমা পি’। সামরিক পরিভাষায় এই শ্রেণির অস্ত্রকে ‘ডিরেক্ট এনার্জি ওয়েপন সিস্টেম’ (ডিইডব্লিউ) বলা হয়। কয়েক কিলোওয়াট শক্তিসম্পন্ন লেজার রশ্মি ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের ড্রোনকে ধ্বংস করে দিতে পারে হেলমা। এর পাল্লা দু’কিলোমিটারের বেশি। সেই সঙ্গে ‘হেলমা’য় যুক্ত রয়েছে নিচু উচ্চতা দিয়ে ওড়া শত্রু-ড্রোন চিহ্নিত করতে সক্ষম রেডার এবং শত্রু-ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল করতে সক্ষম উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন জ্যামার। প্রথাগত বিস্ফোরকবাহী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এর খরচও যৎসামান্য। গত নভেম্বরে এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর বৈঠকের পর স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলির তালিকায় রয়েছে ‘হেলমা’।