বাজেট যাঁরই হোক, বিধি কিন্তু বামই

বছর ঘুরেছে। সরকার বদলেছে। দেড় দশকে বহু বার মুখ পাল্টেছে অর্থমন্ত্রীর। কিন্তু বাজেট সম্পর্কে সিপিএমের প্রতিক্রিয়া বদলায়নি! ভাষার সামান্য এদিক-ওদিক কিংবা বলার ভঙ্গি বদলটুকু বাদ দিলে, এই একটি বিষয়ে তারা অসম্ভব ধারাবাহিক।

Advertisement

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:০৫
Share:

বছর ঘুরেছে। সরকার বদলেছে। দেড় দশকে বহু বার মুখ পাল্টেছে অর্থমন্ত্রীর। কিন্তু বাজেট সম্পর্কে সিপিএমের প্রতিক্রিয়া বদলায়নি! ভাষার সামান্য এদিক-ওদিক কিংবা বলার ভঙ্গি বদলটুকু বাদ দিলে, এই একটি বিষয়ে তারা অসম্ভব ধারাবাহিক। গত পনেরো বছরে যাঁর সরকারই থাকুক, যিনিই অর্থমন্ত্রী হোন এবং তিনি যেমন বাজেটই পেশ করুন, তাকে নিয়ম করে জনবিরোধী তকমা দিয়ে এসেছেন বামপন্থীরা। এ বারও সেই ‘প্রথা’ ভাঙার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলেই মনে করছেন সকলে।

Advertisement

অটলবিহারী বাজপেয়ীর জমানায় শুধু দারিদ্র সীমার নীচে থাকা মানুষকে রেশনে ভর্তুকিতে খাদ্যশস্য দেওয়ার কথা বলেন (টার্গেটেড পিডিএস) প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিন্‌হা। সিপিএম তাকে মনে করেছে গরিবের উপর হামলা। সেই এনডিএ সরকারের আমলে তোপ দেগেছে বিলগ্নিকরণ মন্ত্রক তৈরির বিরুদ্ধে। আবার প্রথম ইউপিএ-সরকারের আমলে, যখন তাদের সমর্থনেই মনমোহন সরকার চলছে, তখনও বাজেটের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত থেকেছে তারা। সেই সময় পি চিদম্বরম যখন একশো দিনের কাজ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামের পরিকাঠামোয় বিপুল টাকা বরাদ্দ করেছেন, তখন কৃতিত্ব নিয়েছে বামেরা। কিন্তু তা-ও বাজেটে মানুষের স্বার্থবিরোধী কিছু প্রস্তাব আছে বলতে ছাড়েনি। অভিযোগ তুলেছে বরাদ্দ কমেরও।


বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

Advertisement

২০০৮ সালে শুরু হওয়া বিশ্বজোড়া মন্দার প্রভাব কাটাতে ২০০৯-এর বাজেটে শিল্পের জন্য একগুচ্ছ করছাড়ের (ত্রাণ প্রকল্প) কথা ঘোষণা করেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাতে সিপিএম অভিযোগ তুলেছে গরিব-বড়লোকের ফারাক বাড়ার। আবার নরেন্দ্র মোদীর সরকারে অরুণ জেটলির বাজেট পেশেও সেই স্বর বদলায়নি। অর্থনীতির চাকায় গতি ফেরাতে লগ্নি টানার চেষ্টায় গত বাজেটে বিনিয়োগে বেশ কিছু সুবিধা ঘোষণা করেন জেটলি। প্রতিশ্রুতি দেন ধাপে ধাপে কর্পোরেট করের হার কমানোর। সিপিএমের প্রতিক্রিয়া ছিল, সাধারণ মানুষের উপর বোঝা আরও বাড়ল।

ফলে প্রতিক্রিয়ায় হেরফের যদি হয়ে থাকে, তবে তা নেহাতই শব্দে। কখনও বাজেট জনবিরোধী তকমা পেয়েছে। কখনও তাকে বলা হয়েছে মানুষের উপর আক্রমণ বা হামলা। কোনও বার সিপিএম বলেছে, বাজেট খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থবিরোধী। আবার কোনও বছর তাকে চিহ্নিত করেছে মানুষের উপর বাড়তি বোঝা হিসেবে। এই সোমবারও জেটলির বাজেট পেশের পরে বৈঠক বসবে দিল্লির এ কে গোপালন ভবনে। কথা বলবেন দিল্লিতে উপস্থিত পলিটব্যুরো সদস্যরা। দেবেন বিবৃতি। কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যে ওই একই রকম প্রতিক্রিয়া সেখানে থাকবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই সিপিএম নেতাদেরও।

দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য নীলোৎপল বসুর অবশ্য যুক্তি, ‘‘সেই ১৯৯১ সাল থেকে পেশ হওয়া প্রতিটি বাজেটের কাঠামো একই। আর্থিক উদারিকরণ। তাই প্রতিক্রিয়াও এক।’’ তাঁর দাবি, উদারিকরণের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর জোরালো হচ্ছে পশ্চিমী দুনিয়াতেও। তার প্রভাব স্পষ্ট সেখানকার অর্থনীতি, রাজনীতিতে। তিনি স্পষ্ট বলছেন, ‘‘সোমবারও একই কাঠামো মেনে বাজেট হলে, প্রতিক্রিয়া একই থাকবে আমাদের।’’

পলিটব্যুরোর এক সদস্যও বলছেন, ‘‘ধনী ও সর্বহারার ফারাক দিন-দিন বাড়ছে। তাই এগুলি জনবিরোধী বাজেটই। সিপিএম বরাবর এর বিরোধিতা করেছে। আগামী দিনেও করবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement