—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
অমলেটের টুকরো, অনলাইন লেনদেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)— এই তিন সূত্র ধরেই খুনের রহস্যের কিনারা করল পুলিশ।
গত ২৯ ডিসেম্বর মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র জেলার গোলা-কা-মন্দির থানার এক জঙ্গল এলাকা থেকে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। পাথর দিয়ে থেঁতলে মুখ বিকৃত করে দেওয়া হয় ওই মহিলার। দেহ শনাক্ত করার উপায় ছিল না। পরে এআই-এর সাহায্যে মৃত মহিলার স্কেচ বানানো হয়। শুরু হয় মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা। গ্বালিয়রের এসএসপি ধর্মবীর সিংহ এএনআই-কে বলেন, ‘‘এই খুনের ঘটনা পুলিশের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ, প্রথম অবস্থায় মহিলার পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।’’ পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মহিলার দেহে অমলেটের টুকরো পাওয়া গিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সেই সূত্র ধরে ঘটনাস্থলের আশপাশে ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সব খাবারের দোকানে খোঁজখবর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক দোকানদার জানান, ওই সময়ে দুই ব্যক্তির সঙ্গে এক মহিলা এসেছিলেন। তাঁরা অমলেট খান।
তদন্তের সময় ওই দোকান এলাকার সব সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা যায়। পাশাপাশি ওই দোকানদার জানান, খাবারের টাকা অনলাইনে দেওয়া হয়েছিল। ফুটেজে দুই ব্যক্তিকে শনাক্তও করা হয়। সেই সব সূত্র ধরে মঙ্গলবার সকালে সচিন সেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধর্মবীর জানান, এআই সহায়তায় বানানো স্কেচ থেকে জানা যায় ওই মহিলা টিকমগড়ের বাসিন্দা। সেখানে তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। তবে দিন কয়েক আগে সচিনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ওই মহিলা। তার পরই স্বামীর সংসার ছেড়ে তাঁর সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি।
সচিনের সন্দেহ ছিল ওই মহিলা আরও অনেকের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। সেই সন্দেহ থেকে খুনের ষড়যন্ত্র করেছিলেন তিনি। ধর্মবীর বলেন, ‘‘অভিযুক্তেরা ওই মহিলাকে রাস্তার ধারের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। তার পরে মাথায় পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি জ্যাকেট এবং অন্য জিনিসপত্র প্রমাণ হিসাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। সব কিছু তথ্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সাহায্য করে।