Maha Kumbh Monalisa

মহাকুম্ভের সেই মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক! জন্মের ‘ভুয়ো’ শংসাপত্র দেখিয়ে বিয়ে? স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা

গত মাসেই কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে বিয়ে সেরেছিলেন মোনালিসা। সমাজমাধ্যমে আলাপ হওয়া মহারাষ্ট্রের যুবককে বিয়ে করেন তিনি। তখন তাঁর পরিবার অভিযোগ তুলেছিল যে, মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩০
Share:

মহাকুম্ভের ভাইরাল গার্ল মোনালিসা। ছবি: সংগৃহীত।

প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভের সেই ‘ভাইরাল গার্ল’ আবারও খবরের শিরোনামে। গত মাসেই কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে বিয়ে সেরেছিলেন মোনালিসা। সমাজমাধ্যমে আলাপ হওয়া মহারাষ্ট্রের যুবককে বিয়ে করেন তিনি। তখন তাঁর পরিবার অভিযোগ তুলেছিল যে, মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু মোনালিসা তাঁর প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে ‘প্রমাণ’ করেন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক নন। উল্টে তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।

Advertisement

সেই সময় মোনালিসা অভিযোগ তুলেছিলেন, তুতো ভাইয়ের সঙ্গে তাঁকে বিয়ে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল পরিবার। তিনি সেটা মানতে রাজি হননি। তার পরই ফরমান খানকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বিয়ে করার পরেও সমস্যামুক্ত হননি মোনালিসা। বরং নতুন একটি সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে তিনি যে নিজেকে প্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করেছিলেন, সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করে তাঁর পরিবার। তার পরই তদন্ত শুরু হয়। সূত্রের খবর, জাতীয় জনজাতি কমিশন এই ঘটনার তদন্ত করে। তাদের রিপোর্টে দাবি করা হয়, মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাঁর বয়স ১৬। আর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই মোনালিসার বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে।

‘আজতক ডট ইন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় জনজাতি কমিশনের তদন্তে দাবি করা হয়েছে, মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক। কমিশনের চেয়ারম্যান অন্তর সিংহ আর্যের নির্দেশে গঠিত তদন্তকারী দল কেরল এবং মধ্যপ্রদেশ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলি একত্রিত করে। মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে মোনালিসার জন্মের রেকর্ড সংগ্রহ করে। সেই রেকর্ড অনুযায়ী মোনালিসার জন্ম হয়েছিল ২০০৯ সালে ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে। মোনালিসা বিয়ে করেন ২০২৬ সালের ১১ মার্চ। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২ মাস ১২ দিন।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনজাতি কমিশন প্রথম তদন্ত শুরু করে কেরল থেকে। সেখানে বিয়ে করেন মোনালিসা। সেখান থেকে দাবি করা হয়, আধার কার্ডে উল্লিখিত বয়স অনুযায়ী বিয়ে করানো হয়েছে। কেরলের পুওর গ্রামপঞ্চায়েতে এই বিয়ে নথিভুক্ত করা হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জন্ম শংসাপত্র ভুল তারিখ বসানো হয়েছিল। আর এই শংসাপত্র জারি করেছিল মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বর পুরসভা। সেখানে মোনালিসার জন্মের শংসাপত্রে তারিখ লেখা হয়েছিল ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি। তার পরই কমিশনের তদন্তকারী দল মহেশ্বর সরকারি হাসপাতাল থেকে মোনালিসার জন্মের রেকর্ড সংগ্রহ করে। তার পরই মোনালিসার স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মধ্যপ্রদেশের খরগোন জেলার মহেশ্বর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় মোনালিসা ভাইরাল হয়েছিলেন তাঁর চোখের সৌন্দর্যের জন্য। খুড়তুতো বোনেদের সঙ্গে মেলায় ঘুরে ঘুরে মালা বিক্রি করছিলেন তিনি। তার পর সমাজমাধ্যম প্রভাবীদের নজরে পড়েন। তার পর থেকেই তিনি ভাইরাল হন। শুধু তা-ই নয়, তাঁর জীবনও আমূল বদলে গিয়েছে তার পর থেকে। ছবি, বিজ্ঞাপন করার জন্য একের পর এক প্রস্তাব আসে। মাথার ছাউনিও স্থায়ী ছিল না মোনালিসার। প্লাস্টিকে ঢাকা ছাউনি, জরাজীর্ণ ঘর। দিন-আনা দিন-খাওয়া সেই মোনালিসা এখন অনেক স্মার্ট। অনেক পরিণত। কথা বলেন গুছিয়ে। সাজপোশাক, আদবকায়দাতেও অনেক বদল ঘটেছে। একটি মালয়ালম ছবিতে কাজ করছেন তিনি। বলিউডেও পা রাখার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সনোজ মিশ্রের ছবি ‘দ্য ডায়েরি অফ মণিপুর’-এ আত্মপ্রকাশ করতে পারেন তিনি। মোনালিসা সমাজমাধ্যমে এখন অনেক বেশ সক্রিয়।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement