নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ। ছবি: পিটিআই।
ডাক্তারি পড়ার সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট-ইউজি ২০২৬) বাতিল হওয়ায় কেন্দ্রকে নিশানা করতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। ছাত্রছাত্রীদের প্রতি উদাসীনতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগে কেন্দ্রকে বিঁধছে বিরোধী দলগুলি। একই সঙ্গে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজনে বার বার কেন ‘ত্রুটি’ হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন বিরোধীদের। কংগ্রেস, তৃণমূল, আম আদমি পার্টি, সিপিএম-সহ বিভিন্ন দল কেন্দ্রের সমালোচনা শুরু করেছে।
পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তথাকথিত ‘অমৃত কাল’ দেশের জন্য ‘বিষ কাল’-এ পরিণত হয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘২২ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং স্বপ্ন ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে গিয়েছে।’ এর জন্য ‘বিজেপির দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার’ দিকেই আঙুল তুলেছেন রাহুল। কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, কোনও বাবা তাঁর সন্তানকে পড়ানোর জন্য ঋণ নিয়েছিলেন। কোনও মা তাঁর সন্তানকে পড়ানোর জন্য নিজের গয়না বিক্রি করে দিয়েছিলেন। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী রাত জেগে পড়াশোনা করেছেন। আর এই সবের বদলে তাঁদের জুটেছে ‘প্রশ্নফাঁস, সরকারের অবহেলা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সংগঠিত দুর্নীতি’।
এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র একটি ব্যর্থতা হিসাবে দেখতে নারাজ রাহুল। তাঁর অভিযোগ, এটি দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রতি একটি অপরাধ। রাহুল লেখেন, ‘বার বার ‘প্রশ্নপত্র মাফিয়ারা’ পার পেয়ে যান। আর ফল ভুগতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। এখনও লক্ষ লক্ষ পড়ুয়াকে ফের সেই একই মানসিক চাপ, আর্থিক বোঝা এবং অনিশ্চয়তা সহ্য করতে হবে।’
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে নিশানা করেছেন কেন্দ্রকে। সমাজমাধ্যমে মহুয়া লিখেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে নিট-ইউজি ২০২৬ প্রবেশিকা বাতিল হয়ে গিয়েছে। মোদী জমানায় গত এক দশকে প্রায় ১০০ বার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং ৫০ বার নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ বারের ফাঁসের ঘটনায় ২০ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ কি এর দায় নেবে?’
নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে গোটা দেশে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। গত ৩ মে নিট-ইউজি পরীক্ষা হয়। কিন্তু তার পরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ঘটনাচক্রে, ২০২৪ সালেও ঠিক একই রকম ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই এ বার পরীক্ষার ন’দিনের মধ্যে তা বাতিল করে দিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। এ অবস্থায় সর্বভারতীয় স্তরে প্রবেশিকা পরীক্ষা আয়োজনে কেন্দ্রের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি।
প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে ‘রাজনৈতিক মদত’ থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছেন আম আদমি পার্টি (আপ)-র প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল। তাঁর অভিযোগ, গত ন’বছরে চার বার নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। অথচ অভিযুক্তদের কেউই এখনও শাস্তি পাননি বলে দাবি কেজরীবালের। এ অবস্থায় পড়ুয়াদের গণআন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আপ প্রধানের কথায়, “(কেন্দ্রীয়) সরকার শুধু আন্দোলনের ভাষাই বোঝে।” পড়ুয়াদের রাজপথে নামার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “কেজরীবাল তোমাদের পাশে আছে।”
সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসও সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই গোটা প্রক্রিয়াটিই ‘ত্রুটিপূর্ণ’ এবং এর সংস্কারের দাবি তুলেছেন তিনি। নিট বাতিল হওয়ায় বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করা লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার মনোবলে আঘাত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ সিপিএম নেতার। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলিতে বার বার এমন ব্যর্থতা সার্বিক ব্যবস্থার উপরে মানুষের বিশ্বাসকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে।’