প্রতীকী ছবি।
তাঁকে মেরে ফেলবেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। মৃত্যুর আগে বাপের বাড়িতে কাঁদতে কাঁদতে ফোন করেছিলেন নববিবাহিত তরুণী। তার কিছু পরেই শ্বশুরবাড়িতে ওই তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। আর এই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় উত্তরপ্রদেশের আমরোহায়। মৃতার নাম পুষ্পেন্দ্রি দেবী। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওমপাল নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুষ্পেন্দ্রির দেহ উদ্ধার করেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরা।
পরিবারের অভিযোগ, পণের জন্যই হত্যা করা হয়েছে পুষ্পেন্দ্রিকে। শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে তারা। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক ওমপাল এবং তাঁর বাড়ির লোকজন। তরুণীর বাবা বলবীর সিংহের অভিযোগ, বিয়ের সময় সাধ্যমতো যৌতুক দিয়েছিলেন ওমপালকে। গয়না, টাকা, গাড়ি এবং আসবাব— কোনও কিছুরই খামতি রাখেননি তাঁরা। অভিযোগ, বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই আরও টাকার জন্য পুষ্পেন্দ্রিকে চাপ দেওয়া শুরু করেন ওমপাল এবং তাঁর বাবা-মা। ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। পণের টাকা না দিলে পরিণতি ভাল হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একটা মনোমালিন্য চলছিল। বলবীরের দাবি, তিনি টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করছিলেন। সময়ও চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় দেওয়া হয়নি। তাঁর কন্যার উপর দিন দিন অত্যাচার বাড়ছিল। তাঁকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন বলবীরেরা। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাঁদতে কাঁদতে পুষ্পেন্দ্রি তাঁর বাবাকে ফোন করেন। বলবীর বলেন, ‘‘মেয়ে আমাকে জানায় ওর উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তার পরই বলে, বাবা, আমাকে নিয়ে যাও। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। তার পর সেখানে ছুটে যাই। কিন্তু আমরা পৌঁছোনোর আগেই ওর মৃত্যু হয়।’’