বাজেট এলেই সকলের আশা থাকে, আয়করে কিছুটা সুরাহা মিলবে। বাড়বে আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা। অরুণ জেটলির তৃতীয় বাজেট ঘিরে এ বারও সেই প্রত্যাশা তুঙ্গে। কিন্তু সেই সঙ্গে আশঙ্কা, পরিষেবা করের হার ফের এক দফা বাড়তে পারে বাজেটে। ফলে বাড়তে পারে মোবাইলের বিল, রেল বা বিমানের টিকিট থেকে রেস্তোরাঁয় খাওয়ার খরচ। অর্থ মন্ত্রক সূত্রেরও ইঙ্গিত, বাজেটে অরুণ জেটলি হয়তো এক হাতে দেবেন, কিন্তু অন্য হাতে নেবেনও।
এখন আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও আয়কর দিতে হয় না। আড়াই থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে ১০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, বাজেটে আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা আড়াই লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৩ লক্ষ টাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ষাটোর্ধ্ব ও প্রবীণদের জন্যও ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হতে পারে। ষাটোর্ধ্বদের জন্য এখন আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা ৫ লক্ষ টাকা। অর্থ মন্ত্রকের কর্তাদের যুক্তি, হাতে বেশি টাকা থাকলে কেনাকাটা বাড়বে। তার ফলে বাড়বে কারখানার উৎপাদন ও আর্থিক বৃদ্ধির হার।
আরও পড়ুন
আয়করে সাশ্রয় মেলার সম্ভাবনা থাকলেও আম জনতাকে চিন্তায় রাখছে পরিষেবা কর। গত বাজেটের মতো এ বারেও এক দফা পরিষেবা কর বাড়াতে পারেন জেটলি। অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা জানাচ্ছেন, পণ্য-পরিষেবা কর (জিএসটি) চালু করার কথা মাথায় রেখেই পরিষেবা করের হার বাড়ানো দরকার। মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, জিএসটি-র হার ১৮%-র কাছাকাছি থাকবে। গত বাজেটে অর্থমন্ত্রী পরিষেবা করের হার ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৪% করেছেন। এ বার তা আরও বাড়িয়ে ১৬% করা হতে পারে। না হলে ১৮% হারে জিএসটি চালু হলে এক ধাক্কায় পরিষেবা কর অনেকখানি বেড়ে যাবে। তাতে ব্যবসা-বাণিজ্যে তার ধাক্কা লাগতে পারে। তাই ধাপে ধাপে পরিষেবা করের হার বাড়িয়ে জিএসটি-র কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা এই যুক্তি দিলেও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে বাড়তি বেতন দেওয়ার জন্যই সরকারের বাড়তি আয় দরকার। মোদী সরকার সেই চেষ্টাই করছে। বাড়তি আয়ের জন্য উৎপাদন শুল্ক বা পরিষেবা কর না বাড়িয়ে সরকারের উচিত আয়কর থেকে বাড়তি আয়ের পথ খোঁজা।
এটাই অর্থ মন্ত্রকের সামনে এক পরীক্ষা। কারণ আয়করের মাধ্যমে আয় বাড়াতে হলে আরও বেশি মানুষকে এই করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ১২৫ কোটির দেশে এখন মাত্র ৩.৫ কোটি মানুষ আয়কর দেন। যা নেহাৎই সামান্য। পার্থসারথি সোমের নেতৃত্বাধীন কর প্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ছিল, এই সংখ্যাটা অন্তত ৬ কোটি হওয়া উচিত। প্রাথমিক ভাবে ১ কোটি বাড়তি মানুষকে আয়করের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। রাজস্ব দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘আমরা আরও বেশি মানুষকে করের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। আবার কম আয়ের মানুষের উপর করের বোঝা কমানোটাও আমাদের লক্ষ্য।’’
আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি কর বাঁচানোর সুযোগ করে দেওয়া হতে পারে সঞ্চয় করের ক্ষেত্রে। এখন দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ে কর ছাড় পাওয়া যায়। তার পর জাতীয় পেনশন যোজনাতে আরও ৫০ হাজার টাকা রাখলেও কর ছাড় মেলে। এর পাশাপাশি পরিকাঠামো তহবিলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ের সুযোগও হতে পারে জেটলির এই বাজেটে।