Su-57 Felon

প্রযুক্তি হস্তান্তর-সহ ভারতকে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ্‌ যুদ্ধবিমান দিতে চান পুতিন, প্রস্তাব এল রাশিয়া থেকে

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ গোড়া থেকেই রুশ বিমান কেনার পক্ষপাতী ছিলেন। কারণ, অতীতে কখনও আমেরিকার তৈরি কোনও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনা ব্যবহার করেনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫৬
Share:

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্লাদিমির পুতিন (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ‘এফ-৩৫ লাইটনিং২’ বিক্রির বার্তা দিয়েছিল। কিন্তু তা ফিরিয়ে পুরনো সামরিক সহযোগী রাশিয়ার তৈরি ‘সুখোই এসইউ-৫৭’ (‘ফেলন’ নামে যা পরিচিত)-এর উপরেই ভরসা রাখতে চলেছে ভারত। জানুয়ারি মাসে তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে ‘উইংস ইন্ডিয়া এগ্‌জ়িবিশন ২০২৬’-এ রুশ সরকারি সংস্থা ‘ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন’ (ইউএসি)-এর তরফে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ্ যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি-সহ ভারতীয় বায়ুসেনাকে হস্তান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিতে এই বিমানে ব্যবহৃত ইজ়ডেলিয়ে-৩০ ইঞ্জিনের যৌথ উৎপাদনেরও বার্তা দিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

Advertisement

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বেঙ্গালুরুর ইয়ালেহাঙ্কা বায়ুসেনাঘাঁটিতে ‘অ্যারো ইন্ডিয়া ২০২৫’-এ যুদ্ধকৌশল প্রদর্শন করতে এসেছিল এফ-৩৫ এবং এসইউ-৫৭। সে সময় থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, আমেরিকা বা রাশিয়ার মধ্যে কোনও একটি দেশের থেকে সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার দিকে ঝুঁকতে পারে নয়াদিল্লি। ঘটনাচক্রে, ফ্রান্সে তৈরি ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান রাফালের পরে ভারতীয় বায়ুসেনা গত কয়েক মাস ধরেই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পেতে সক্রিয় হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত বছর ওয়াশিংটন এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল নয়াদিল্লিকে। কিন্তু মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতি মেনেই প্রযুক্তি হস্তান্তরে রাজি হয়নি ট্রাম্প সরকার।

সূত্রের খবর, ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবের পরেই ভারতকে দু’ইঞ্জিন এবং দু’আসন বিশিষ্ট ‘এসইউ-৫৭ই’ (এসইউ-৫৭-র এক্সপোর্ট ভ্যারিয়েন্ট) যুদ্ধবিমানের ‘যৌথ উৎপাদনে’র প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। পাশাপাশি, ক্রেমলিনের তরফে বার্তা দেওয়া হয়, তারা এসইউ-৫৭ ফাইটার জেটের গুরুত্বপূর্ণ ‘সোর্স কোড’ দিতেও রাজি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ গোড়া থেকেই রুশ বিমান কেনার পক্ষপাতী ছিলেন। কারণ, অতীতে কখনও আমেরিকার তৈরি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ভারতীয় সেনা ব্যবহার করেনি। অন্য দিকে, মিগ-২১, মিগ-২৭, মিগ-২৯, সুখোই-৩০-সহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ব্যবহারের অভিজ্ঞতা রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার পাইলটদের।

Advertisement

তা ছাড়া, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ স্লোগানের মাধ্যমে দেশের মাটিতে উন্নত হাতিয়ার তৈরির উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ফলে বর্তমানে বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তরের শর্ত রাখছে কেন্দ্র। সেই মাপকাঠির নিরিখেও রুশ এসইউ-৫৭-র পাল্লা ভারী। গত চার বছরে ইউক্রেনের যুদ্ধে বার বার এই যুদ্ধবিমান তার দক্ষতা প্রমাণ করেছে। অন্য দিকে, এফ-৩৫ লাইটিং-২ সে ভাবে এখনও আকাশযুদ্ধে পরীক্ষিত নয়। সূত্রের খবর নতুন প্রস্তাবে সোর্স কোডের পাশাপাশি ‘এসইউ-৫৭ই’-তে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটিও জানাতে সম্মত হয়েছে মস্কো।

কোনও যুদ্ধবিমানের সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য এবং বহুমুখী কার্যকারিতার প্রয়োগ নির্ভর করে ‘সোর্স কোড’-এর উপর। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য। রাফাল যুদ্ধবিমানের ‘সোর্স কোড’ ভারতকে দেয়নি ফ্রান্স। ফলে রাফাল যুদ্ধবিমানে ‘ব্রহ্মস’-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বসানো সম্ভব হয়নি। ভারতীয় বায়ুসেনাকে ‘ব্রহ্মস’ ব্যবহারের জন্য নির্ভর করতে হয় রুশ সুখোই-৩০-এর উপর। ‘এসইউ-৫৭’-র ‘সোর্স কোড’ পেলে অনায়াসেই তাতে ব্যবহারযোগ্য সমস্ত ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইন্টিগ্রেট’ করতে পারবে বায়ুসেনা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement