মীনাক্ষী নটরাজন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাজ্যসভার প্রার্থিপদ বাতিলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজন। কিন্তু শুক্রবার সেই আর্জি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। বিচারপতি পি কে মিশ্র এবং বিচারপতি এএস চন্দুরকরের বেঞ্চ জানিয়েছে, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পর নির্বাচন-সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়!
যে পদ্ধতিতে মীনাক্ষীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, ‘‘যখনই সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে এই আদালতের, অথবা ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে উচ্চ আদালতগুলির এক্তিয়ার প্রয়োগের চেষ্টা নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন করা হয়েছে, তখনই এই আদালত বারবার হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। কারণ, সংবিধানের ৩২৯(খ) অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক নির্দেশিকা এমনই বলছে।’’
শুক্রবার শুনানিপর্বে সিঙ্ঘভি আর্জি জানান, কোনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাখ্যান যদি ‘প্রথম দর্শনেই’ (এক্স ফেসি) অবৈধ, খামখেয়ালি এবং প্রমাণযোগ্য ভাবে ভ্রান্ত হয়, তবে আদালতের হস্তক্ষেপ করা উচিত। কিন্তু সেই যুক্তি খারিজ করে বেঞ্চ বলেছে, “যদি এ ধরনের একটি পার্থক্য স্বীকৃত হয়, তবে আদালতকে নির্বাচনী বিরোধগুলিকে দু’টি শ্রেণিতে বিভক্ত করতে হবে—প্রথমত, যেগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে যে সুস্পষ্ট বা প্রকট ভুল হয়েছে এবং যার জন্য অনুচ্ছেদ ৩২ বা ২২৬-এর অধীনে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, যেগুলিতে অসন্তুষ্ট পক্ষকে নির্বাচনী আবেদন (ইলেকশন পিটিশন)-এর প্রতিকার পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এমন কোনও পার্থক্যের স্থান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৯(বি)-এ (যা আইনসভা-সংক্রান্ত নির্বাচনের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে প্রযোজ্য) নেই।’’ সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, ‘‘আবেদনকারীর বক্তব্য মেনে নেওয়া মানে হবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে এমন একটি ব্যতিক্রম অন্তর্ভুক্ত করা, যা সংবিধান নিজেই আদালতকে প্রদান করেনি।’’
মধ্যপ্রদেশে থেকে মীনাক্ষীকে রাজ্যসভার ভোটে প্রার্থী করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু মনোনয়নের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় একটি ফৌজদারি মামলার কথা গোপন করার অভিযোগে তাঁর মনোনয়নপত্রই মঙ্গলবার বাতিল করে দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার তথা মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার প্রধান সচিব অরবিন্দ শর্মা। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়। যদিও মীনাক্ষী মামলা গোপন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রার্থিপদ বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বুধবার কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছিল, মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে বাস্তবে এমন কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে শুধু একটি নোটিস পাঠিয়েছিল আদালত। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ।
কিন্তু সেই যুক্তি মানেনি কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই অবশ্য বৃহস্পতিবার রাতে তড়িঘড়ি বিজেপির তিন প্রার্থী— তরুণ চুঘ, রজনীশ অগ্রবাল এবং মহেশ কেওয়াটকে ‘বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ ঘোষণা করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভা ভোটে বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠলেও তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেনি কমিশন। প্রসঙ্গত, ২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় শাসকদল বিজেপির ১৬৩ এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ৬৬ জন বিধায়ক রয়েছেন। আগামী ১৮ জুন তিনটি রাজ্যসভা আসনে সেখানে ভোট হওয়ার কথা ছিল। জয়ের জন্য কোনও প্রার্থীকে অন্তত ৫৮টি প্রথম পছন্দের ভোট পেতে হত। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে বিজেপির দু’টি এবং কংগ্রেসের একটি আসনে জয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু কংগ্রেস একটি আসনে লড়লেও বিজেপি তিনটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল। কংগ্রেস আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, হরিয়ানা-হিমাচলের মতোই ঘুরপথে জয়ের ছক কষছে বিজেপি।