Epstein Files

দিয়েছিলেন ‘দীর্ঘাঙ্গী সুইডিশ সুন্দরীর’ প্রস্তাব! অনিল অম্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল এপস্টিনের, বলছে নথি

নথি অনুসারে, এপস্টিনের সহকারী জানিয়েছেন, ম্যানহাটনে এপস্টিনের বাড়িতে দেখা হয়েছিল দু’জনের। অনিলের প্রতিনিধি এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তার পরে অনিলকে করা এপস্টিনের একটি মেসেজও প্রকাশ্যে এসেছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২০
Share:

(বাঁ দিকে) অনিল অম্বানী। জেফ্রি এপস্টিন (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিক, শিল্পপতি থেকে শিক্ষাবিদ— অনেকের সঙ্গেই কখনও না কখনও যোগাযোগ হয়েছিল যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের। তাঁদের আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা করে দিতেন বলেও প্রকাশিত হয়েছে রিপোর্টে। সেই তালিকায় এ বার ঢুকে পড়ল ভারতীয় শিল্পপতি অনিল অম্বানীর নাম। আমেরিকার বিচার দফতর এপস্টিন ফাইলের যে লক্ষ লক্ষ পাতা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, অনিলের সঙ্গে ভাব জমাতে প্রায় এক বছর সময় ব্যয় করেছিলেন ওই যৌন অপরাধী।

Advertisement

নথি অনুসারে ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই দু’বছরে মাঝেমধ্যেই অনিলকে মেসেজ করেছিলেন এপস্টিন। তার বহু বছর আগেই সেই ২০০৬ সালে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়, ব্যবসা, মহিলাদের নিয়ে কথা বলেছিলেন দু’জন। সেই প্রমাণও রয়েছে ফাইলে। নথি থেকেই জানা গিয়েছে, সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনাও ছিল অনিল এবং এপস্টিনের। ২০১৭ সালে অম্বানীদের পরিবার নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য বেশ কয়েকটি বইয়েরও অর্ডার করেছিলেন এপস্টিন।

নথি বলছে, ২০১৭ সালের ৯ মার্চ অনিল একটি মেসেজে লিখেছিলেন, ‘‘কাকে প্রস্তাব করছেন?’’ এপস্টিন জবাবে বলেন, ‘‘দীর্ঘাঙ্গী এক সুইডিশ শ্বেতাঙ্গ মহিলা, দেখা করলে মজা হবে।’’ প্রায় ২০ সেকেন্ডের মাথায় অনিল জবাবে লেখেন, ‘‘ব্যবস্থা করুন।’’

Advertisement

এপস্টিনের একটি নম্বর এবং অনিলের মধ্যে যে মেসেজ চালাচালি হয়েছিল, তা থেকে জানা যায়, ওই বছরের শেষে দু’জনের প্যারিসে সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে তাঁদের দেখা হয়নি। এর পরে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাভোসে ভাষণ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তাঁরা। সেখানে অনিল জানিয়েছিলেন, ২০১৯ সালের মে মাসে নিউ ইয়র্কে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তখনই তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এপস্টিন লেখেন, ‘‘কারও সঙ্গে যদি চুপচাপ দেখা করতে চান, তা হলে আমাকে জানাবেন।’’

নথি অনুসারে, এপস্টিনের সহকারী জানিয়েছেন, ম্যানহাটনে এপস্টিনের বাড়িতে দেখা হয়েছিল দু’জনের। অনিলের প্রতিনিধি এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তার পরে অনিলকে করা এপস্টিনের একটি মেসেজও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে যৌন অপরাধী লিখেছেন, ‘‘আজ দারুণ গেল। আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভাল লাগল।’’

২০১৭ সালের একটি কথোপকথনে অনিলকে এপস্টিন জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাঁর কেমন মহিলা পছন্দ। তিনি লেখেন, ‘‘কোনও অভিনেত্রী বা মডেলের প্রতি কি আপনার কোনও ঝোঁক রয়েছে? আশা করি, মেরিল স্ট্রিপ হবে না। তা হলে কিছু করার নেই।’’ জবাবে অনিল লিখেছিলেন, ‘‘রুচি একটু ভাল করুন বন্ধু। আমাদের পরের ছবি স্কারলেট জোহানসনের সঙ্গে।’’ এপস্টিন জবাবে লেখেন, ‘‘আমি শুনে খুশি হলাম যে বয়স্কদের তুলনায় শ্বেতাঙ্গ তরুণীদের আপনি পছন্দ করেন।’’

প্রসঙ্গত, ওই বছরেই স্কারলেট অভিনীত ‘গোস্ট ইন দ্য শেল’ মুক্তি পায়। সেই ছবির সহ-প্রযোজনা করেছিল অনিলের সংস্থা রিলায়্যান্স এন্টারটেনমেন্ট। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা অন্যত্র সরানোর অভিযোগ উঠেছে রিলায়্যান্স এডিএজি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থা এবং তার কর্ণধার অনিলের বিরুদ্ধে। এখন তার তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

গত শুক্রবার আমেরিকার বিচার দফতর এপস্টিন ফাইলের ৩০ লক্ষ পাতা প্রকাশ্যে এনেছে। তার মধ্যে রয়েছে ২০০০ ভিডিয়ো। ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। এর আগে প্রকাশিত ফাইলগুলোয় এপস্টিনের সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনকে। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়ে গত নভেম্বরে এপস্টিন সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২০০৮ সালে এপস্টিনের বিরুদ্ধে নাবালিকা ধর্ষণ ও নিগ্রহের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। ২০১৯ সালের অগস্টে গ্রেফতারির মাসখানেকের মাথায় জেলেই আত্মহত্যা করেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement