Child Rape Case

লজ্জাজনক এবং অসংবেদনশীল! তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় হরিয়ানা পুলিশের ভূমিকায় বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া গুরুগ্রামের পকসো আদালতের কোনও সিনিয়র মহিলা বিচারকের উপর দেওয়া হবে। গুরুগ্রাম জেলা আদালতের বিচারককে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫১
Share:

এই ধরনের খবরের ক্ষেত্রে আসল ছবি প্রকাশে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকে। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

নাবালিকাকে ধর্ষণের মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়ল হরিয়ানা পুলিশ। এই মামলায় পুলিশের ভূমিকা ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘অসংবেদনশীল’ বলে মনে করছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। নির্যাতিতার বাড়িতে কেন পুলিশ যায়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন আদালতের। সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, “কেন পুলিশ ওই শিশুর বাড়িতে যেতে পারল না? তারা (পুলিশ) কোন রাজা-মহারাজা?”

Advertisement

গত বছরের ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝে ঘটনাটি ঘটে। হরিয়ানায় তিন বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বেশ কিছু দিন পরে। হরিয়ানার ওই ঘটনায় পুলিশি তদন্তে চরম গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ অবিলম্বে মামলার তদন্তে অবিলম্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। মহিলা আইপিএস অফিসারদের নিয়ে এই সিট গঠন করতে বলা হয়েছে।

এই মামলা পকসো আইনের আওতায় এফআইআর রুজু করা হয়েছে। কিন্তু তুলনামূলক লঘু ধারা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে আদালত। তা নিয়েই হরিয়ানা পুলিশকে ভর্ৎসনা করেছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। পুলিশের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শো কজ় নোটিসও জারি করেছে আদালত। তদন্তে চূড়ান্ত গাফিলতি এবং ত্রুটির জন্য কেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না, তা জানাতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, “পুলিশ কেন ওই শিশুর বাড়িতে যেতে পারল না? তারা কোন রাজা-মহারাজা? আর যে পুলিশ আধিকারিককে সেখানে পাঠানো হল, তাঁকে তো উল্টে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

Advertisement

এই ঘটনায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি গুরুগ্রামের শিশুকল্যাণ কমিটি একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। সেই রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। ওই রিপোর্টের বিষয়বস্তুর জন্য শো কজ় করা হয়েছে শিশু কল্যাণ কমিটির সদস্যদেরও। কেন কমিটির সদস্যপদ থেকে তাঁদের সরানো হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা থেকে শুরু করে একেবারে নিচুতলা পর্যন্ত—সকলে মিলে এটি প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন যে, শিশুটির কাছে কোনও প্রমাণই নেই। তার বাবা-মায়ের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই, এটাই বোঝাতে চেয়েছেন সকলে।” সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া গুরুগ্রামের পকসো আদালতের কোনও সিনিয়র মহিলা বিচারকের উপর দেওয়া হবে। গুরুগ্রাম জেলা আদালতের বিচারককে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement