অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। —ফাইল চিত্র।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। মামলাকারীরা কেন হাই কোর্টের দ্বারস্থ হননি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং সাংবিধানিক নৈতিকতার গণ্ডির মধ্যে থাকার জন্য বলেছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মামলাকারীরা চাইলে গুয়াহাটি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।
গত সপ্তাহে এই মামলাটি যখন গৃহীত হয়, তখনই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছিল, নির্বাচনী লড়াইয়ের খানিকটা সেরে নেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টে। এই প্রবণতা সমস্যার বলেও জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মামলা খারিজের সময়ে আবার সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আদালত। মামলাকারীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের প্রশ্ন, “আপনারা গুয়াহাটি হাই কোর্টে যাননি কেন? এটির (হাই কোর্টের) ক্ষমতার ভুল মূল্যায়ন করবেন না। আমরা সকলকে সংযত হয়ে সাংবিধানিক নৈতিকতার গণ্ডির মধ্যে থাকতে বলব। কিন্তু ভোটের ঠিক আগে এটি একটি প্রবণতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
সোমবার প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলাটি উঠেছিল। কিন্তু মামলাকারীদের আগে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। একই সঙ্গে গুয়াহাটি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকেও এই মামলাটির দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
সম্প্রতি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অসম বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে পোস্ট হওয়া ওই ভিডিয়োকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। সম্পাদনা (এডিট) করা ওই ভিডিয়োটি ঘিরে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর পরই পিছু হটে সেটি সমাজমাধ্যম থেকে মুছে ফেলে বিজেপি। তবে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। তা নিয়ে ইতিমধ্যে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। হিমন্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কয়েক জন বামপন্থী নেতাও। হিমন্তের বিরুদ্ধে সেই মামলা প্রথম দিনের শুনানিতেই খারিজ করল শীর্ষ আদালত।