Cockroach Janta Party

‘আরশোলা’র কার্যকলাপ ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তায় উদ্বেগ! গোয়েন্দা রিপোর্ট হাতিয়ার করে এ বার প্রত্যাঘাতের পথে কেন্দ্র

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। তারই জেরে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে এই ‘ব্যঙ্গ-বিপ্লব’।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ২০:২৮
Share:

নেটমাধ্যমে জন্ম নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ফলোয়ার সংখ্যার নিরিখে দেশের শাসকদল বিজেপি-কে পিছিয়ে ফেলে দিয়েছে তারা। আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবালের প্রাক্তন সহযোগী অভিজিৎ দীপকের গড়া সেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-কে ‘জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক’ বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের (আইবি) রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে! আর সেই রিপোর্টকে হাতিয়ার করেই এ বার ‘প্যারোডি পার্টি’ সিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার সক্রিয় হয়েছে বলে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি।

Advertisement

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯(এ) ধারায় সিজেপির হ্যান্ডলটি স্থগিত রাখতে বলেছিল এক্স কর্তৃপক্ষকে। আইবি রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওই পদক্ষেপ করা হয়।

নয়াদিল্লির ওই বার্তার পরে ভারতে সিজেপির এক্স হ্যান্ডলটি ‘ব্লক’ করা হয়। এর পরেই প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক ব্যঙ্গকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি অনলাইন আন্দোলনের উপর কেন এমন খড়্গহস্ত হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার? ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র সঙ্গে নামের সাযুজ্যের কারণেই নিশানা হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’? ঘটনাচক্রে, সিজেপি-কে ঘিরে নেটদুনিয়ায় এই উত্তেজনার মধ্যেই আত্মপ্রকাশ করেছে আর একটি মিম এবং প্যারোডি-ভিত্তি করে তৈরি একটি ডিজিটাল যুব আন্দোলন— ‘ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট’ ওরফে এনপিএফ। সমাজমাধ্যমে তাদেরও ফলোয়ার সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত।

Advertisement

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন ও সকলকে আক্রমণ করেন।

প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যের পর গত ১৬ মে সিজেপি আত্মপ্রকাশ করে। ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ (ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন) হিসাবে পথ চলা শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নেটমাধ্যমে প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলে সিজেপি। শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-সহ দেশের সব রাজনৈতিক দলের ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায় নব্য আন্দোলনের হ্যান্ডলটি। এর পরে সাময়িক ভাবে ‘ব্লক’ করে দেওয়া হয় সিজেপির হ্যান্ডলটি। পরে তা তুলে নেওয়া হয়। আমেরিকা প্রবাসী অভিজিৎ শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘আরশোলারা মরে না। এখন আমরা ইনস্টাগ্রামে ১৮ মিলিয়ন ( ১ কোটি ৮০ লক্ষ ) হিট ছুঁয়ে ফেললাম’। প্রসঙ্গত, ইনস্টাগ্রামে বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা এখনও এক কোটি পেরোয়নি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement