ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভোটাভুটিতে হারার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি ভোট বাতিল করল শাসকদল রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ওই প্রস্তাব এনেছিলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টির হাউস মেম্বাররা। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে নিন্দাসূচক মন্তব্যও ছিল প্রস্তাবে।
হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে ওই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস। যিনি বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক হাউস কমিটির সদস্য। সে সময় রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের বড় অংশ অনুপস্থিত থাকায় ভোটাভুটি নিয়ে আপত্তি তোলেন ট্রাম্প অনুগামীরা। তা মেনে নিয়ে ভোট স্থগিত রাখা হয়! হাউসের তিন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা— হাকিম জেফ্রিস, হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাস চেয়ার পিট অ্যাগুইলার ভোট বাতিলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মতো আচরণ করে চলেছে।”
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘রিপাবলিকানরা কাপুরুষের মতো একটি নির্ধারিত ওয়ার পাওয়ারস রেজ়োলিউশনের ভোট প্রত্যাহার করেছে— এমন একটি আইন, যা দ্বিদলীয় সমর্থনে পাশ হত এবং প্রেসিডেন্টকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শেষ করতে বাধ্য করত।” হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার তথা রিপাবলিকান নেতা মাইক জনসন জানিয়েছেন, জুন মাসে বিষয়টি নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রে (যেমনটি ইরানের সঙ্গে ক্ষেত্রে ঘটেছে) ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত। প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতাবলে সামরিক পদক্ষেপের জন্য ওই সময়সীমা পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারেন।
এর পর প্রেসিডেন্ট সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময় নিতে পারেন। কিন্তু নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যাবতীয় তথ্য-পরিসংখ্যান পেশ করে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। মার্কিন আইন মেনে সামরিক পদক্ষেপের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে সে বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় ট্রাম্প সরকার ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশ পেন্টাগনের সূত্র উদ্ধৃত করে দাবি করেছে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান সেনেটর এবং হাউস মেন্বারদের একাংশও নতুন করে অভিযান শুরুর বিরোধিতা করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ট্রাম্প সরকার এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়নি।