রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা। ছবি: রয়টার্স।
রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেন! সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় বেশ কয়েকটি রুশ তৈলক্ষেত্র আগুন ধরে গিয়েছে। প্রতিবেদনের সঙ্গে তার ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও রয়টার্সের প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘‘রাশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কোনও সঙ্কটের মুখে পড়েনি।’’ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার সেনাকে প্রয়োজনীয় প্রত্যাঘাতের নির্দেশ দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তবে পেসকভের দাবির সত্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রয়টার্সের দাবি, যে সব শোধনাগারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেগুলির সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৮ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি। অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ২ লক্ষ ৩৮ হাজার টন! গত মাস থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জ়েলেনস্কির ফৌজ ধারাবাহিক ভাবে রুশ শোধনাগারগুলিকে নিশানা করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ক্ষতিগ্রস্ত রুশ শোধনাগারগুলির মধ্যে রয়েছে পশ্চিম রাশিয়ার কিরিশি, মস্কো তেল শোধনাগার এবং ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত নিজ়নি নোভগোরোদ, রিয়াজান এবং ইয়ারোস্লাভল শোধনাগার। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শোধনাগার কিরিশির উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ২ কোটি মেট্রিক টন। এটি রাশিয়ার মোট শোধনাগার ক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। যা গত ৫ মে থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ড্রোন হামলায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারটি। বার্ষিক ১ কোটি ৭০ লক্ষ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তেল শোধনাগার নোরসি বুধবার হামলার শিকার হয়েছে। সেখানে বন্ধ হয়েছে উৎপাদন।