—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
একে গরমে ‘ত্রাহি মধুসূদন’ দশা। অভিযোগ, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহরের কিছু জায়গায় বেড়েছে লোডশেডিং। তিতিবিরক্ত গ্রাহকদের মতে, সরকারি বা বেসরকারি বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পক্ষ থেকে এই সমস্যা মেটাতে তৎপরতার প্রয়োজন ছিল।
যদিও প্রশাসনের যুক্তি, এই গরমেও রাজ্যে বিদ্যুতের জোগানে কোনও ঘাটতি নেই। যদি লোডশেডিং হয়, সেটা স্থানীয় স্তরে এবং বিক্ষিপ্ত ঘটনা। সমস্যা জানলে দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। কলকাতা শহরের বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা সিইএসসি-র তরফে জানানো হয়েছে, পরিকল্পনা করে গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অর্থাৎ, লোডশেডিং করা হয় না। গ্রাহকদের সমস্যা যাতে না হয়, সে জন্য কুইক রেসপন্স দল, কল সেন্টার, কন্ট্রোল রুম চালুও আছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি লোডশেডিং-এর হিসেব রাখার একটি ড্যাশবোর্ড চালু হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শেষ এক সপ্তাহে শহরের আশপাশে তাদের এলাকার মধ্যে বারুইপুরে সব চেয়ে বেশি, চার বার পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে। গড়িয়া, সল্টলেক, বেহালা, হাওড়া, নিউ টাউন, দমদম, ব্যারাকপুরের মতো এলাকায় সেই সংখ্যাটা এক থেকে তিনের মধ্যে। যা স্বাভাবিক বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। বিদ্যুৎ দফতরের কাছেও পরিষেবা অতিরিক্ত বিঘ্নিত হওয়ার খবর আসেনি বলে দাবি। যদিও সংস্থার দাবি, তাদের এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা তেমন নেই। পাশাপাশি, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ার মতো জেলায় দৈনিক গড়ে দু’বার লোডশেডিং-এর তথ্য রয়েছে সরকারি ড্যাশবোর্ডে।
বিদ্যুতের পরিষেবা নিয়ে শহরবাসীর একাংশ অখুশি। মানিকতলার বাসিন্দা রেণু রায়ের বক্তব্য, এই গরমে দুপুরের দিকে ঘণ্টাখানেক পরিষেবা থাকে না। কসবার বাসিন্দা অভিজিৎ দত্তের কথায়, দিনে তিন-চার বার কম সময়ের জন্য হলেও লোডশেডিং হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ থাকলে কষ্ট বাড়ছে। সিইএসসি-র দাবি, গরমে যাতে সমস্যা না বাড়ে, তার জন্য একাধিক সাব স্টেশন, হাইটেনশন ও লো-টেনশন লাইনের তার পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বারে এখনও পর্যন্ত সিইএসসি এলাকায় সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা পৌঁছেছিল ২৭২৮ মেগাওয়াটে। সেই চাহিদাও মেটানো সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গোটা দেশেই বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। গত মঙ্গলবার দুপুর ৩টে ৪০ মিনিটে গোটা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পৌঁছেছিল ২৬০.৪৫ গিগাওয়াটে। তার আগের দিন, সোমবার দুপুর ৩টে ৪২ মিনিট নাগাদ বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড ছুঁয়েছিল, ২৫৭.৩৭ গিগাওয়াটে। তা-ও পূরণ করা গিয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে