অসমের গৌরাং নদীর জলের স্রোতে ভেঙে যাওয়া রাজ্য সড়ক দিয়ে যাবার সময় ফের জলে পরে তলিয়ে গেলো অসমের একটি দৈনিক খবরের কাগজের একটি ছোট গাড়ি। ওই ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়া ছোট গাড়ির দুই চালককে জল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ওই ছোট গাড়িটিকেও। রবিবার সকাল ৬ টা নাগাদ ধুবুরি জেলার বিলাসীপাড়া থানার এলেংমারি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
গত শুক্রবার ভোরে ওই একই যায়গায় ১২ জন বর যাত্রী সহ একটি ছোট গাড়ি গৌরাং নদীর পরে গিয়েছিলো। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৪ জন যাত্রীর। পুলিশ জানিয়েছে, বিলাসীপাড়া থেকে রাজ্য সড়ক দিয়ে কোকরাঝাড় যাবার পথে এলেংমারি গ্রামের একটি সেতুর কাছের প্রায় ২৫ মিটার পথ গৌরাং নদীর জলের স্রোতে ভেঙে যায় গত বৃহস্পতিবার রাতে। শুক্রবার ভোরে ওই বরযাত্রীর গাড়িটি জলে পরে যাবার পর ওই সেতুর এক মাথায় একটি বাঁশ বেঁধে দিয়ে কোনও রকমে পথ আটকে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু শনিবার রাতে ওই বাঁশটি খুলে পড়ে থাকে। রবিবার সকালে অসমের গুয়াহাটি থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক খবরের কাগজের একটি ছোট গাড়ি কাগজ নিয়ে, গোয়ালপাড়া থেকে কোকরাঝাড় হয়ে ধুবুরি যাবার সময় ওই সেতুটির ওপর দিয়ে তীব্র বেগে যাবার সময় ওই সেতু অতিক্রম করেই সোজা গৌরাং নদীর জলে গিয়ে পরে তলিয়ে যায়।
ঘটনার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ছোট গাড়ির দুই চালকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত ওই দুই চালককে কোকরাঝাড় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। এরপর পুলিশ এবং এনডিআরএফ জওয়ানরা ওই ওই ছোট গাড়িটিকে উদ্ধার করে। অন্যদিকে রবিবার সকালে বিলাসীপাড়া থানার দুটি পৃথক যায়গায় কলার ভেলা করে সঙ্কোষ নদী পার হতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক শিশু সহ দুজনের। পুলিশ জানিয়েছে মৃতদের নাম- মরমি খাতুন (৪) এবং আকিনা বিবি। মরমির বাড়ি সঙ্কোষ গ্রামে। অকিনার বাড়ি অজারা শালমার গ্রামে।
এদিকে শনিবার ভোর থেকে অসমের ধুবুরি জেলার বিলাসীপাড়া মহকুমার গৌরাং এবং সঙ্কোষ নদীর জলস্তর কমায় জেলার বান পরিস্থিতি যথেষ্ট উন্নতি হয়। যদিও এখনও বিলাসীপাড়া মহকুমার প্রায় ২০০টি গ্রামের জলবন্দি প্রায় দেড় লক্ষ লোক। গৌরাং এবং সঙ্কোষ নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে ওই এলাকার প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমিও।
এক দিকে ভুটান থেকে নেমে আসা জল অন্যদিকে দুদিন থেকে প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে গৌরাং এবং সঙ্কোষ নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় অসমের ধুবুরি জেলার বিলাসীপাড়া শহর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।