পাক নাটকে শিবসেনার হামলা

শিবসেনার হুমকিতে মুম্বইয়ে পাকিস্তানি গজল গায়ক গুলাম আলির অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছিল দিন কয়েক আগেই। এ বার গুড়গাঁওয়ে পাক শিল্পীদের নাটক চলাকালীন পাকিস্তান বিরোধী স্লোগান তুলে গ্রেফতার হলেন শিবসেনার চার সদস্য।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:১৪
Share:

এই নাটকেই চলে হামলা। গুড়গাঁওয়ে। ছবি: পিটিআই।

শিবসেনার হুমকিতে মুম্বইয়ে পাকিস্তানি গজল গায়ক গুলাম আলির অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছিল দিন কয়েক আগেই। এ বার গুড়গাঁওয়ে পাক শিল্পীদের নাটক চলাকালীন পাকিস্তান বিরোধী স্লোগান তুলে গ্রেফতার হলেন শিবসেনার চার সদস্য।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার গুড়গাঁওয়ের একটি মুক্তমঞ্চে রাত ৮টা থেকে শুরু হয়েছিল পাকিস্তানি শিল্পীদের নাটক ‘বাঁজ’। মাস ফাউন্ডেশন নামে লাহৌরের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি দলের সাত শিল্পী অংশ নিয়েছিলেন নাটকে। দলে ছিলেন দুই মহিলাও। ৮টা ৫২ নাগাদ পাকিস্তান বিরোধী স্লোগান দিতে দিতে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যায় পাঁচ থেকে ছ’জন যুবক। নিজেদের শিবসেনা সদস্য বলে দাবি করে ‘ভারত মাতার জয়’, ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিতে থাকে তারা। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, মঞ্চের কাছে দু’জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু ঝামেলার সময় তাঁদের কারোর দেখা মেলেনি। দর্শকরাই ছুটে গিয়ে হামলাকারীদের হাত থেকে শিল্পীদের বাঁচান। ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখার পর ফের শুরু হয় অনুষ্ঠান।

পুলিশ জানিয়েছে, চার অভিযুক্ত অজয়, গৌতম, সুমিত এবং জিতুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাটকটির পরিচালক আমির নওয়াজ জানিয়েছেন, লাহৌরের শিল্পীদের এই নাটক পাকিস্তানে চলাকালীনও হামলা চালায় কট্টরপন্থীরা। নাটকটির লেখক আফজল নবি বলেছেন, ‘‘শিল্পীরা কখনওই সীমান্তে আটকে থাকে না। আমরা এখানে শান্তির বার্তা দিতে এসেছিলাম। বাধা আসা সত্ত্বেও নাটক চালিয়ে নিয়ে গিয়েছি। দর্শক আমাদের কাজের প্রশংসা করেছেন।’’

Advertisement

মুম্বই এবং পুণেতে গুলাম আলির দু’টি অনুষ্ঠান বাতিলে বাধ্য করা থেকে শুরু করে শিবসেনার একের পর এক কাণ্ডে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছে দল। শিল্পকে এ ভাবে দেশের গণ্ডিতে বেঁধে ফেলার প্রতিবাদে নিন্দার ঝড় উঠেছে দেশ জুড়ে। তবে তার পরেও থামেনি শিবসৈনিকদের তাণ্ডব। প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী খুরশিদ মহম্মদ কাসুরির বই প্রকাশ অনুষ্ঠান বাতিল না করায় অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা সুধীন্দ্র কুলকার্নির মুখে কালি মাখিয়ে দেয় দলের সদস্যরা। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহেশ ভট্ট থেকে শুরু করে শাবানা আজমি। তবে এর পরেও যে শিবসেনা নিজেদের কট্টর অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি তার প্রমাণ মিলল পাক শিল্পীদের অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার ঘটনায়।

বিজেপির জোটসঙ্গী শিবসেনার এই পাক-বিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও। প্রতিবাদকারীদের একই ছাতার তলায় আনতে হ্যাসট্যাগ দিয়ে ‘প্রোফাইলফরপিস’ নামে প্রচার শুরু হয়েছে। ফেসবুকে, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে এই ভাবেই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের অসংখ্য মানুষ। কী করছেন? প্রোফাইল ছবির সঙ্গেই কয়েক ছত্রে সহিষ্ণুতার বার্তা দিচ্ছেন তাঁরা। যেমনটা করেছেন মুম্বইয়ের রাম সুব্রহ্মণ্যম। তাঁর প্রোফাইল ছবিতে হাতের চিরকুটে লেখা, ‘‘আমি, ভারতীয়। আমি মুম্বইয়ের বাসিন্দা। আমি পাকিস্তানকে ঘৃণা করি না। আমি একা নই। আমার মতো আরও অনেকে আছেন।’’ হ্যাসট্যাগের মাধ্যমে বাকি প্রতিবাদকারীদেরও একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। রামের মতো একই সুর পাকিস্তানের শাহবাজ মালিকের বার্তাতেও, ‘‘আমি পাকিস্তানি। আমি মুসলিম। কিন্তু আমি ভারত-বিদ্বেষী নই।’’ বলিউডের সঙ্গীত পরিচালক এবং গায়ক বিশাল দাদলানিও যোগ দিয়েছেন এই প্রচারে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement