বাড়তি একটা দিনও নয় ৭ রেসকোর্সের

সঞ্জয় বারু এবং পি সি পরাখের লেখা এক জোড়া বই-বোমার জেরে ভোট-বাজারে তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলা তুঙ্গে। এরই মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ জানিয়ে দিলেন আলবিদা। কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব তথা সনিয়া গাঁধীকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী মাসের ১৬ তারিখ ভোটের ফল ঘোষণার পর আর এক দিনও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭ নম্বর রেসকোর্স রোডে থাকতে চান না। প্রয়োজন হলে তার আগেই বাড়িটি ছেড়ে দিতে রাজি আছেন তিনি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৪ ০৪:২৪
Share:

৩ নম্বর মোতিলাল নেহরু মার্গের এই বাড়িতে উঠে আসবেন মনমোহন সিংহ। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় এখানেই থাকতেন শীলা দীক্ষিত। রমাকান্ত কুশওয়াহার তোলা ছবি।

সঞ্জয় বারু এবং পি সি পরাখের লেখা এক জোড়া বই-বোমার জেরে ভোট-বাজারে তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলা তুঙ্গে। এরই মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ জানিয়ে দিলেন আলবিদা। কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব তথা সনিয়া গাঁধীকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী মাসের ১৬ তারিখ ভোটের ফল ঘোষণার পর আর এক দিনও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭ নম্বর রেসকোর্স রোডে থাকতে চান না। প্রয়োজন হলে তার আগেই বাড়িটি ছেড়ে দিতে রাজি আছেন তিনি।

Advertisement

গত দশ বছর ধরে এই বাড়িটিই তাঁর ঠিকানা। লোকসভা ভোটের পর কংগ্রেস যদি সরকার গঠন করে, তা হলেও মনমোহন যে আর প্রধানমন্ত্রী হবেন না তা আগেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। তাই বাড়তি কোনও সুবিধা এক দিনের জন্যও নিতে চাইছেন না মনমোহন। তাঁকে নিয়ে আর কোনও নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিক এটাও নাপসন্দ স্বভাবনম্র মনমোহনের।

কেন্দ্রীয় নগোরন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কমলনাথ উদ্যোগী হয়েছেন বিষয়টি নিয়ে। লুটিয়ান-এর দিল্লির মানচিত্র খতিয়ে দেখে স্থির হয়েছে ৩ মোতিলাল নেহরু মার্গের বাড়িটি দেওয়া হবে মনমোহন সিংহকে। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এটিই ছিল শীলা দীক্ষিতের বাসস্থান। মনমোহন এবং তাঁর স্ত্রী গুরশরণ কৌর গিয়ে বাড়িটি দেখে কিছুটা তদারকিও করে এসেছেন। সেখানে চলছে নতুন করে সাজানোর কাজ। রেসকোর্স-এর মত প্রাসাদোপম না হলেও, সাড়ে তিন একর জমির উপর এই বাংলোটিও যথেষ্টই প্রশস্ত। মূল বাড়িটিতে বেডরুম চারটি। সঙ্গে অফিস স্পেস, স্টাফ কোয়ার্টার এবং নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা। ইতিমধ্যেই এসপিজি চলে গিয়েছে ওই বাংলোতে।

Advertisement

আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আই কে গুজরাল যে বাড়িটিতে থাকতেন, সেই ৫ নম্বর জনপথের বাড়িটির কথাও প্রাথমিক ভাবে ভাবা হয়েছিল মনমোহনের জন্য। নিয়ম অনুযায়ী এক জন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর টাইপ ৮ বাংলোতে থাকার কথা। অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর কৃষ্ণ মেনন মার্গের যে বাড়িটিতে রয়েছেন, সেটিও এই শ্রেণির। কেন্দ্রীয় নগোরন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে যখন মোতিলাল নেহরু রোডের বাড়িটি মনমোহনের জন্য চিহ্নিত করা হয়, তখনও শীলা ওই বাড়িতেই ছিলেন, কেরলের রাজ্যপাল হয়ে দক্ষিণে যাত্রা করেননি। সে সময়ই মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি দল গিয়ে বাংলোটি খতিয়ে দেখে। সব দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত জনপথের নয়, শীলার প্রাক্তন বাংলোটিই পছন্দ করা হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement