Myth Vs Reality

ভিনিগার আর নুন জলে পা ডোবাচ্ছেন এর-ওর কথা শুনে? এমন টোটকা কতখানি নিরাপদ

ভিনিগার মিশ্রিত জলে পা ডুবিয়ে রাখলেই কি কমবে পা ফাটা, দূর হবে সংক্রমণ? এমন টোটকার সুবিধা-অসুবিধা কী?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৯
Share:

পায়ের পরিচর্যায় ভিনিগার আর নুন জল কি আদৌ কাজ করে? ছবি: সংগৃহীত।

সমস্যা যেমনই হোক, তার রকমারি সমাধান থাকে সমাজমাধ্যমে। এই যেমন গোড়ালি ফাটা বা পা ঢাকা জুতো পরার ফলে দুর্গন্ধ হওয়া, পায়ের সংক্রমণ ঘটা। অনেকেই বলছেন এই ধরনের সমস্যার সহজ সমাধান নাকি লুকিয়ে রয়েছে ভিনিগার এবং নুন জলে। এক বালতি ঈষদুষ্ণ জলে এক কাপ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার এবং আধ কাপ ইপসম সল্ট বা ঘরে থাকা নুন মিশিয়ে, তার মধ্যে পা ডুবিয়ে রাখতে হবে। সপ্তাহে ২-৩বার করলেই সমস্যার সমাধান হবে।

Advertisement

ঈষদুষ্ণ জলে পা ডুবিয়ে রাখলে লাভ যেটি হয়, তা হল আরাম। সমস্ত ক্লান্তি মুছে যায় নিমেষে। আসলে পায়ের নীচে থাকে একগুচ্ছ স্নায়ু। হালকা গরম জলের স্পর্শে আরাম পায় সেগুলি।

কিন্তু ভিনিগার কি আদৌ কাজের?

Advertisement

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এমন কোনও গবেষণা নেই এই নিয়ে। ভিনিগারে অ্যাসিড জাতীয় উপাদান আছে। আছে তার নিজস্ব গন্ধও। তার প্রভাবে পায়ে ঘাম এবং ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর কারণে তৈরি হওয়া দুর্গন্ধ সাময়িক ভাবে কেটে যেতে পারে। তবে এটি যে স্থায়ী সমাধান, তার কোনও প্রামাণ্য তথ্য নেই।

সংক্রমণ দূর করে?

দীর্ঘ ক্ষণ জুতো পরে থাকলে ঘাম জমে বা মাটিতে থাকা ছত্রাকের সংস্পর্শেও পায়ে সংক্রমণ হয়। ভিনিগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিডে কিছু সংক্রমণ প্রতিহত হয় বলে দু-একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে গবেষকরা সকলে এ ব্যাপারে একমত নন।

বরং পায়ের ত্বকে সংক্রমণ হলে, ভিনিগার জলে পা ডুবিয়ে রাখলে পরিস্থিতি যে খারাপ হবে না, তা জোর দিয়ে বলা চলে না। ২-৩ বার পরখ করে দেখতে পারেন, তবে লাভ না হলে চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।

চামড়া কি নরম করে?

অনেকেরই গোড়ালি ফাটে। অ্যাসিটিক অ্যাসিড বা অ্যাসিড জাতীয় উপাদান ফাটা বা শক্ত চামড়া নরম করে। মৃত কোষ ঝরিয়ে দেয়।ঈষদুষ্ণ জলে স্বল্পমাত্রায় ভিনিগার মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। পিউমিক স্টোন দিয়ে গোড়ালি ঘষলে আলগা চামড়া এবং মরা কোষ ঝরে যাবে। তার পরে পরিষ্কার জলে পা ধুয়ে, ময়েশ্চারাইজ়ার বা পেট্রোলিয়াম জেলি মাখতে হবে।

কাদের সতর্ক হওয়া দরকার?

ডায়াবিটিসি এবং পায়ে ক্ষত থাকলে, ভিনিগার জলে পা ডোবানোর আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ডায়াবেটিকদের পায়ের যত্নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। কারণ, পায়ে কেটে গেলে বা ক্ষত হলে তা দ্রুত শুকোতে চায় না। সঠিক চিকিৎসা না হলে তা থেকে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। সংক্রমণও হয়ে যেতে পারে। ফাটা পা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। পায়ে ক্ষত থাকলে বা কেটে গেলে ভিনিগার মিশ্রিত জলে পা না ডোবানোই ভাল। অ্যাসিড থাকায়, এতে পায়ে জ্বালা হবে। তা ছাড়া, অ্যাসিডের সংস্পর্শে ক্ষত বিষিয়ে যেতে পারে। শুধু ডায়াবেটিক নয়, পায়ে কোনও ক্ষত থাকলে এমন কৌশল এড়িয়ে চলা ভাল।

এপসম সল্ট: এপসম সল্ট হল ম্যাগনেশিয়াম সালফেট। ত্বকের যত্নে স্নানের জলে এটি ব্যবহার করা হয়। এই লবণ দিয়ে পা মাসাজ় করলে নোংরা, মরা কোষ ঝরে যায়। ত্বক নরম হয়।

পায়ের যত্নে ভিনিগার-নুন জল ব্যবহার করাই যায় আরামের স্বার্থে। পা পরিষ্কার করার জন্যও ভাল। তবে সংক্রমণ কমানো উদ্দেশ্য হলে এটা যথাযথ উপায় নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement